মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া প্রতিনিধি
সোমবার (২ নভেম্বর), সকাল ৯টা ২৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও পরিবেশ দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে শীতের ঐতিহ্য খেজুরের রস ও গাছ। উপজেলার ৪২টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র একটির বৈধ কাগজপত্র থাকলেও বাকিগুলো অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে গ্রামীণ বৃক্ষসম্পদ ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
শীতের আগমনে গ্রামীণ জনপদে খেজুরের রস সংগ্রহের চিরচেনা দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। একসময় শীতের সকালে খেজুরের রসে ভাপা পিঠা খাওয়ার যে ঐতিহ্য ছিল, তা ইটভাটার আগ্রাসনে বিলুপ্তির পথে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে খেজুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলা ভূমি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, লোহাগাড়ায় মোট ৪৪টি ইটভাটার মধ্যে দুটি বন্ধ রয়েছে। বাকি ৪২টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র একটির বৈধ কাগজপত্র আছে। সবচেয়ে বেশি ২২টি ইটভাটা রয়েছে চরম্বা ইউনিয়নে। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ আইন অমান্য করে এসব ভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে ইটভাটাগুলোতে কার্যক্রম চালু থাকতে দেখা গেলেও বৈধ কাগজপত্রের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ব্যবস্থাপকরা। তারা জানান, মালিকপক্ষ এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন এবং তারা উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির আহমদ বলেন, “বিবিবিলা গ্রামে তিনটি ইটভাটা রয়েছে, যা গ্রামবাসীর জন্য কষ্টের কারণ। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ইতোমধ্যে নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু অভিযানের ঘোষণা নয়, ইটভাটাগুলোর কাগজপত্র যাচাই, নিয়মিত তদারকি এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত এসব ভাটার অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।