সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে আটক করা হয়েছে। ভারতে যাওয়ার প্রাক্কালে সীমান্তে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে আজ শুক্রবার বিজিবি সদর দপ্তরের এক খুদে বার্তায় জানানো হয়েছে। প্রথম আলো
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অবসরে যান। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও টেলিভিশন টক শোতে কথা বলতেন তিনি।
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ডনা এলাকা থেকে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে আটক করা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্র জানায়, ডনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এ সময় বিজিবির একটি টহল দল তাঁকে আটক করে।
কানাইঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরীন জানান, সাবেক বিচারপতি মানিক ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি আটক করে হেফাজতে রেখেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক স্থানীয় দালাল সাদ্দামসহ অন্যদেরকে টাকা দিয়ে সীমান্ত দিয়ে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার সহযোগিতা চান। বিকালের দিকে দনা সীমান্ত এলাকা পাড়ি দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। প্রবেশের পর একটি টিলার মধ্যবর্তী স্থানে কলাগাছের পাতার মধ্যে তাকে শুয়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কিছু লোকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার নাম শামসুদ্দিন মানিক বলে পরিচয় দেন। বাংলাট্রিবিউন
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সাবেক বিচারপতি মানিককে বলতে শোনা গেছে, টাকা লাগলে তিনি দেবেন। তার ভাই-বোন দেবেন। আমি এ দেশে এত কষ্ট করে এসেছি কি বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য?
আটকের সময়ের আরও একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাবেক বিচারপতির গলায় গামছা বেঁধে হাত দিয়ে ধরে রেখেছেন একজন ব্যক্তি। আরেকজন তার নাম জিজ্ঞেস করছেন। এ সময় বিচারপতি মানিক তার পুরো নাম বলেন এবং বাড়ি মুন্সীগঞ্জ বলে জানান।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই বিচারপতি অনেকটা অসহায় হয়ে বলতে থাকেন, আমার কাছে ছিল ব্রিটিশ এবং বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ কয়েকটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড। ভয়ে দেশ ছেড়ে যাচ্ছিলাম। এখানকার দুই যুবক বলেছিল, ১৫ হাজার টাকা দিলে সীমান্ত পার করে দেবে। ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর সেই দুই যুবক ভারত সীমান্তে আমাকে নিয়ে যায়। সীমান্তে নিয়ে মারধর করে আমার কাছে থাকা ৬০-৭০ লাখ টাকা এবং মোবাইল নিয়ে যায় তারা। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়লে কলার পাতার ওপর শুইয়ে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
কানাইঘাট উপজেলার ডনা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মহিবউল্লা রাত ১২টার দিকে জানান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক তখন পর্যন্ত তাঁদের ক্যাম্পেই আছেন।