প্রতিনিধি, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)। মেয়েকে মারধরের ঘটনার বিচার চাওয়ার জেরে এক গৃহবধুকে পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৯ নং সোরা গ্রামে। আহত ঐ গৃহবধুকে রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জাহানারা বেগম (৫০) একই গ্রামের দিনমজুর সফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভুক্তোভোগী গৃহবধু জানান পারিবারিক কলহের জেরে চারদিন পূর্বে প্রতিবেশী গোলাম বারিক, বিলাল হোসেন, আল মামুন ও তাসলিমা বেগম তার মেয়েকে মারধর করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে না থাকলেও কাঁকড়া শিকার শেষে সুন্দরবন থেকে ফিরে তারা স্বামী-স্ত্রী রক্তাক্ত মেয়েকে চিকিৎসকের কাছে নেন। পরেরদিন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার মোড়ল মাতব্বরদের কাছে ঐ ঘটনার বিচার দেন। এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে একই ব্যক্তিরা স্বামী কাঁকড়া শিকারে সুন্দরবনে থাকার সুযোগে লাঠিশোটা নিয়ে বাড়িতে ঢুকে নাতি নাতনী ও মেয়েসহ তাকে মারপিট করে।
সফিকুল ইসলাম জানান সরকার পরিবর্তনের পরদিন ৬ আগস্ট পর এলাকায় আনন্দ মিছিলকালে উত্তেজিত কয়েক তরুন ৯ নং ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা গোলাম বারিককে ধাওয়া দেয়। সে ঘটনায় ক্ষুব্ধ উক্ত আ’লীগ নেতা ও তার অনুসারীরা স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার প্রশ্রয়ে প্রতিশোধ নিতে দু’দফা তার মেয়েসহ স্ত্রীকে পিটিয়েছে। মাত্র একমাস আগে তার স্ত্রী’র এ্যাপেনডিক্স অপারশন হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সেলাই থাকা অংশ দিয়ে রক্ত আসছে বলে চিকিৎসকরা জরুরী পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে। এঘটনায় তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানান।
অভিযুক্ত গোলাম বারিক জানান তিনি কিংবা তার লোকজন এ ঘটনায় জড়িত না। তবে পূর্ব বিরোধের জেরে স্থানীয় লোকজনের সাথে সফিকুলের পরিবারের হাতাহতির ঘটনা শুনেছেন।
বিচারের দায়িত্বে থাকা গাবুরা ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জোনাব আলী জানান সালিশের জন্য ডাকার আগেই আ’লীগ নেতার লোকজন জাহানারাকে মারধর করেছে। অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঐ গৃহবধূকে তার পরিবার হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান এলাকার বাইরে থাকায় আপাতত আহত নারীর চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন।