টাঙ্গাইল প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, এক মা নিজের চার মাস বয়সী শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিক্রির সেই টাকা দিয়ে তিনি মোবাইল ফোন এবং পায়ের নূপুর, নাকের নথ ও জুতা কিনেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মধুপুর পৌর এলাকার পুন্ডুরা শেওড়াতলা গ্রামে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা রবিউল ইসলাম বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানালে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। শুক্রবার সকালে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিউল ইসলামের সাথে গোপালপুরের লাবনী আক্তার লিজার ফেসবুকে পরিচয় হয়। প্রেমের সম্পর্কের পর তারা দুই বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই রবিউলের আর্থিক অসচ্ছলতা দেখা দিলে লিজার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই থাকত।
চার মাস আগে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। নাম রাখা হয় তামিম। সন্তানের জন্মের পরেও তাদের সংসারে শান্তি আসেনি। রবিউল জানান, তামিমের জন্মের পর কিছুদিন শান্তি থাকলেও লিজা ছেলেকে নিয়ে তার বোনের বাড়ি ভূঞাপুরে চলে যান এবং সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। এমনকি রবিউলের বাবা অসুস্থ হলেও তিনি ছেলেকে নিয়ে দেখতে আসেননি।
রবিউল আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার তিনি জানতে পারেন লিজা তার সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর তিনি ভূঞাপুর থেকে লিজাকে ফিরিয়ে এনে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। লিজার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং মনির নামের এক ব্যক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে শিশুটিকে সিরাজগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর লিজা তার কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওই সময় আমার মাথা ঠিক ছিল না। ওই টাকা দিয়ে আমি একটি মোবাইল, পায়ের নূপুর, নাকের নথ ও জুতা কিনেছি। এখন আমার কাছে সামান্য কিছু টাকা আছে।’
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, বিক্রি হওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং শুক্রবার ভোরে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা, তা এখনও জানা যায়নি।