দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শিল্পনগরী নামে খ্যাত আল্লারদর্গা বাজার সংলগ্ন
অক্সোফোর্ড গলির ৫শ’ মিটার সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। বর্ষা এলেই ছয়মাস হাঁটু পানি আর কাঁদার নিচে ডুবে থাকে সড়কটি। এলাকাবাসীর দাবী সড়কটি সংস্কার খুবিই জররিী হয়ে পড়েছে। । পাঁচ শতাধিক স্কুলপড়ুয়া শিশু প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম ঝুকির মধ্যে চলাচল করছেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সড়কটি দৌলতপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের যানজট কমাতে বিকল্প পথ হিসেবে পরিচিত, গাড়ী চলাচলের চাপ রয়েছে সড়কটিতে, কারণ সড়কের দুই ধারে রয়েছে একটি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বে-সরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া শিশু, রোগী-স্বজন ও ব্যবসায়ীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। বর্তমানে সড়কটি যেন কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
এই সড়কে খানা-খন্দক হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের খবর, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পানিতে নিমজ্জিত থাকা অসংখ্য গর্তের কারণে প্রতিদিন গড়ে দুটি করে অটো রিক্সা-ভ্যান উল্টে যায়। মটর সাইকেল-বাই সাইকেল থেকে মানুষ পানিতে পড়ে যায়।
ক্লিনিক মালিক মো. আব্দুল মজিদ বিশ্বাস জানান, গত মাসে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী স্কুলে যেতে গিয়ে কাদা-পানিতে পড়ে হাতের হাড়ে চিড় ধরেছে, এক সপ্তাহ আগে গর্ভবতী এক নারীকে অনেক কষ্ট করে বিকল্প ব্যবস্থায় ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতেই পারেনি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে উপস্থিতি কমছে,আল্লারদর্গা অক্সফোর্ড মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হোসেন আলী জানান, বর্ষাকালে প্রতিদিন ৩০-৩৫ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী অনুপস্থিত থাকে। পিতা-মাতারা শিশুদের পানির উপর দিয়ে পাঠাতে ভয় পান।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানায়, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় নেবে কে? অর্থনীতির ক্ষতি ও যানজটের বোঝা সড়কটি সচল থাকলে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার মানুষ ও পণ্যবাহী ভ্যান-ট্রলি মূল মহাসড়কের চাপ কমিয়ে আল্লরদর্গা বাজারের ভিতর দিয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকে, যা কুষ্টিয়ার জেলা শহরে যাতায়াতে পর্যন্ত প্রভাব ফেলছে।
এলাকার শিক্ষিত-ছাত্র জনতা জানায়, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য সড়কটি উঁচু করে আরসিসি ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা জরুরি। শুধু খোয়া-বালি ফেলে মেরামত করলে অল্প দিনের মধ্যেই আবার ডুবে যাবে। শিশু-রোগী-শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও জীবিকা অনেকাংশে নির্ভর করে এ সড়কটির উপর। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, সড়টি চলতি অর্থবছরে সংস্কার করা হবে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমরা পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের সড়কের জায়গায় ড্রেণ নির্মাণ করতে না দেয়ায় তা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে,
জলাবদ্ধতা দুর করা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।