|মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা|
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও চকরিয়া উপজেলায় একের পর এক আন্দোলন চলে আসছে। একাধিক কর্মসূচি পালনের পরও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না আসায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন আন্দোলনকারীরা। মহাসড়কের বার বার প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এবং দীর্ঘ যানজটের কারণে সাধারণ মানুষও এ আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। অবরোধ চলাকালে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক তামিম মীর্জা বলেন, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে বারবার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেও সুফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ করতে হয়েছে। একই দাবিতে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এবং চকরিয়ার মাতামহুরী সেতুর ওপরও সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহাসড়কের অব্যবস্থাপনা ও সংকীর্ণতা একে “মৃত্যুফাঁদে” পরিণত করেছে, অথচ আশ্বাস ছাড়া বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ছাত্র-জনতার দাবি যৌক্তিক।
বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। চট্টগ্রামের দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, জাইকার অর্থায়নে সড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণের জন্য সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে কাজ দ্রুত শুরু হবে। এদিকে বহু বছরের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া অংশে নিরাপত্তার উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়ার পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত উভয় পাশে পাঁচ ফুট করে সম্প্রসারণের প্রকল্প টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই বাস্তবায়নে যাচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বলছে, জাঙ্গালিয়া দীর্ঘদিন ধরে অঘোষিত ‘মৃত্যুপুরী’। পর্যটক ও স্থানীয়দের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনাগুলো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, দুই পাশে গাছপালা ঘেঁষে থাকা এবং সংকীর্ণ সড়কই দুর্ঘটনার মূল কারণ। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় আধুনিক চার লেন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বহু বছরের শঙ্কা কাটিয়ে যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষের জন্য নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।