|মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি|
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বিজয়ের ৪৯ বছর পূর্তিতে একাত্তরের মহান আত্মত্যাগ স্মরণ করে, মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর ভোরে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত ছিল রাঙ্গামাটির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর আশপাশের স্মৃতিস্তম্ভগুলো। আর এই শ্রদ্ধা জানানোর অগ্রভাগে ছিল রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ।
ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল সুশৃঙ্খলভাবে তোপধ্বনি দেওয়ার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির শুভ সূচনা করে। বিগত ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এই তোপধ্বনি যেন প্রতিবারই আমাদের মনে করিয়ে দেয় একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা, যখন মুক্তিপাগল বাঙালি ছিনিয়ে এনেছিল লাল-সবুজের পতাকা।
এরপর শুরু হয় মূল পর্ব। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম মহোদয়ের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে যান। শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমের সঙ্গে তাঁরা রাঙ্গামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন স্মৃতিসৌধ, শহীদ এম. এ. আলী ও শহীদ এম. শুক্কুর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর, পুলিশ সুপার মহোদয়সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ সামরিক কায়দায় স্যালুট জানিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। এই স্যালুট কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, এটি ছিল সেই বীর শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অঙ্গীকারের প্রকাশ, যাঁরা একটি স্বাধীন দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে যেন এই ভাবনাই প্রতিফলিত হয়— “বীর শহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা চিরন্তন। আজকের এই দিনে আমরা তাঁদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করি এবং দেশকে ভালোবাসার নতুন করে শপথ নিই। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সবসময় জনগণের সেবায় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।”
পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের একঝাঁক শীর্ষ কর্মকর্তা, যা রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের সম্মিলিত শ্রদ্ধা ও প্রতিশ্রুতির প্রতীক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছিলেন মোঃ ইকবাল হোছাইন, পিপিএম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, প্রশাসন ও অর্থ), মোঃ জসীম উদ্দীন চৌধুরী, পিপিএম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), মোঃ তারেক সেকান্দার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল), ও মোজাম্মেল হক (সহকারী পুলিশ সুপার, এসএএফ)
এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও উপস্থিত থেকে বিজয়ের এই মাহেন্দ্রক্ষণে শহীদদের প্রতি তাঁদের বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাঁদের উপস্থিতি এই বার্তাই দেয় যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে পুরো জেলা প্রশাসন ঐক্যবদ্ধ।
১৬ ডিসেম্বরের এই সকালটি রাঙ্গামাটির আকাশে কেবল বিজয়ের আনন্দই ছড়ায়নি, একই সাথে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও নতুন করে দেশ গড়ার অনুপ্রেরণাও ছড়িয়ে দিয়েছে।