মোঃ আব্দুল আউয়াল।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রতিবার ফিরে এসে টের পাই—
আমি আর আগের সেই মানুষটি নই;
আমার ভেতরে ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছে এক নিবিড় অন্ধকার,
যেখানে তুমি অনুপস্থিত,
তবু তোমার ঘরের মতোই
সবকিছু নীরবে রূপ বদলায়—অকারণে, অবিরত।
জানালার কাঁচে চোখ রাখলেই দেখি—
আকাশ নয়,
একটি উল্টো ঝুলে থাকা শহর;
সেখানে রাস্তাগুলো পায়ের নিচে থাকে না,
মানুষের পায়ের ভেতর দিয়ে
নদীর মতো বয়ে যায়—
অদৃশ্য কোনো স্রোতে।
বাতিগুলো জ্বলে ওঠে—
কোনো অপ্রকাশিত কান্নার অন্তঃস্থল থেকে,
আলো নয়, যেন জমাটবাঁধা দীর্ঘশ্বাস।
আমি বহুবার তোমার দিকে এগিয়েছি—
কিন্তু প্রতিবারই দেখি,
আমার ছায়া আগে পৌঁছে যায়,
আর ফিরে আসে না কখনো;
সে বুঝি এখনো আটকে আছে
কোনো গোপন দরজার ফাঁকে,
অর্ধেক খোলা এক অনিশ্চয়তায়।
তোমার ঘরে বাতাসও স্থির নয়—
সে নিজের নাম বারবার বদলায়:
কখনো শিস,
কখনো ফিসফাস,
কখনো বা নিঃশব্দে লিখে যায়
আমাদের না-বলা কথোপকথনের খসড়া।
আর আমি—
তোমার দরজার সামনে দাঁড়ালেই দেখি,
কাঠ নয়,
তরল সময় চৌকাঠ বেয়ে নেমে আসে ধীরে;
আমি পা রাখি—
আর হাঁটু পর্যন্ত ডুবে যাই
অপরিচিত এক বিকেলের গভীরে।
তোমার ঘরে ঢুকলেই ঘড়িগুলো উল্টো দিকে হাঁটে,
কাঁটার শব্দে ভেঙে পড়ে কিছু পুরোনো নীরবতা,
দেয়ালের গায়ে ঝুলে থাকা ছায়াগুলো
নদীর মতো শরীর বদলায়—
অস্থির, অবিরাম।
আমি যখন তোমার নাম উচ্চারণ করি—
অক্ষরগুলো ভেঙে যায়,
মেঝের উপর ছড়িয়ে পড়ে
শুকনো মাছের আঁশের মতো ঝিকমিক করে;
তাদের ছুঁতে গেলে আঙুলে লেগে থাকে
অজানা এক লবণাক্ত ইতিহাস—
যার স্বাদে এখনো ডুবে আছে
আমাদের হারিয়ে যাওয়া সময়।