মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখছড়ী গ্রামের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এক তরুণের গল্প—যার চোখে ছিল স্বপ্ন, হৃদয়ে ছিল অদম্য ইচ্ছাশক্তি, আর জীবনে ছিল সংগ্রামের নিরবচ্ছিন্ন অধ্যায়। সেই তরুণই আজ ঢাকার স্বনামধন্য শিল্পপতি এম শাহাদাৎ হোসেন সোহেল।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অদম্য প্রচেষ্টায় তিনি শিক্ষা জীবন সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরু চট্টগ্রামের একটি বায়িং হাউজের সিইও হিসেবে—যেখানে তিনি দক্ষতা, সততা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। কিন্তু তার স্বপ্ন সেখানে থেমে থাকেনি। বৃহত্তর পরিসরে কিছু করার আকাঙ্ক্ষায় তিনি পাড়ি জমান রাজধানী ঢাকায়।
ঢাকায় গড়ে তোলেন একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি—যা ধীরে ধীরে এক্সপোর্ট কোয়ালিটি পণ্যের জন্য খ্যাতি অর্জন করে। প্রতিটি ইট, প্রতিটি ঘামে গড়া সেই কারখানা ছিল তার স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু জীবনের পথে আসে আরেক চ্যালেঞ্জ—রোড অ্যান্ড হাইওয়ের অধিগ্রহণে হারাতে হয় সেই গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান। তবুও দমে যাননি তিনি। নতুন করে, নিজস্ব কেনা জমিতে আবার গড়ে তোলেন তার স্বপ্নের কারখানা—আরও দৃঢ়তা, আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
কিন্তু শাহাদাৎ হোসেন সোহেলের গল্প কেবল একজন সফল শিল্পপতির নয়—এটি একজন মানবিক, দায়িত্বশীল ও ধর্মপ্রাণ মানুষের গল্পও। নিজের শেকড়কে ভুলে যাননি তিনি। গ্রামের বাড়ির অদূরে অবস্থিত সুখছড়ী মিফতাহুল উলুম (কওমী) মাদরাসার প্রতি রয়েছে তার গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদরাসাটির অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা প্রয়োজন মেটাতে নীরবে সহায়তা করে আসছেন।
আজ ২০ এপ্রিল, তার মাদরাসা পরিদর্শনকে ঘিরে সৃষ্টি হয় এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ। কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এলাকাবাসীর চোখে-মুখে ফুটে ওঠে গর্ব ও ভালোবাসার দীপ্তি—নিজেদের কৃতিসন্তানকে কাছে পাওয়ার আনন্দে।
পরিদর্শনকালে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কুশলবিনিময় করেন এবং মাদরাসার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তার বক্তব্য ছিল সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণামূলক—
“শুধু আরবি শিক্ষা নয়, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের শিক্ষায়ও পারদর্শী হতে হবে। দ্বীন ও দুনিয়া—দুটোকেই সমানভাবে অর্জন করতে হবে।”
তিনি মাদরাসার যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং নিয়মিত অনুদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার আশ্বাস দেন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী তার এই মহানুভবতা ও দায়িত্ববোধের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শাহাদাৎ হোসেন সোহেলের এই পথচলা যেন আমাদের শেখায়—সফলতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত সফলতা তখনই, যখন সেই অর্জনের আলো ছড়িয়ে পড়ে সমাজ ও মানবতার কল্যাণে।