ভোলা সংবাদাতা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হারিয়ে যাওয়া তিন লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সততার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাকিব নামের এক কিশোর অটোচালক। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তার দাখিল পরীক্ষার্থী ছেলে জাহিদুল ইসলাম রূপককে বোরহানউদ্দিন কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। এরপর তিনি কিছু সময় একটি অটোরিকশায় বসে বিশ্রাম নেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তার সঙ্গে থাকা টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রভর্তি ব্যাগটি অটোতে রেখে চলে যান।
পরে বিষয়টি মনে পড়লে তিনি দ্রুত কেন্দ্রে ফিরে এসে ব্যাগটি খোঁজার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো সন্ধান পাননি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে ব্যাগ ফেরতদাতার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন এবং প্রার্থনা করেন।
এদিকে সাকিব নামের অটোচালক তার গাড়িতে একটি ব্যাগ পান, যা এক পরীক্ষার্থী তাকে দেয়। ব্যাগ খুলে ভেতরে টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দেখতে পেয়ে তিনি মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। তবে তা সম্ভব না হওয়ায় ব্যাগটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বাবা-মায়ের কাছে রাখেন।
পরবর্তীতে ফেসবুকের পোস্ট দেখে সাকিব মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে বোরহানগঞ্জ বাজারে আসতে বলেন। বিকেলে সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের হাতে তিন লাখ টাকা, অরিজিনাল দলিল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কপি ও অন্যান্য কাগজপত্রসহ ব্যাগটি ফিরিয়ে দেন।
এ সময় রফিকুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সাকিবকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দিতে চান। তবে সাকিব তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি ভবিষ্যতে সততার স্বীকৃতি হিসেবে সাকিবের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন।
সাকিবের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার বাবা আব্দুল মান্নান বোরহানগঞ্জ বাজারের একজন মাছ ব্যবসায়ী। বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের বাড়ি। জীবিকার তাগিদে সাকিব ভাড়ায় অটো চালান এবং পরীক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করেন।
শিক্ষাগত দিক থেকে সাকিব ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গণিতে অকৃতকার্য হন। চলতি বছর তিনি আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজের এই কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, টাকার প্রতি তার কোনো লোভ নেই এবং টাকা রেখে দিলে অন্যভাবে ক্ষতি হতে পারত।
ঘটনাটি এলাকায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। স্থানীয় শিক্ষক ও বিশিষ্টজনরা সাকিবের সততা ও নৈতিকতার প্রশংসা করেছেন এবং অনেকেই এটিকে সমাজে সততার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।