কক্সবাজার সংবাদদাতা ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কক্সবাজারের রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে এক নারী ও তার তিন বছরের শিশু কন্যার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা ওই এলাকায় বনবিভাগের জমিতে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোর ৫টার দিকে তিনটি বন্য হাতির একটি দল সৈয়দ কলোনি এলাকায় ঢুকে পড়ে। এসময় হাতির পালটি বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর শুরু করলে আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী ছেমন আরা। একরাম মিয়া তার বড় ছেলেকে নিয়ে আত্মরক্ষা করতে পারলেও স্ত্রী ও ছোট মেয়ে আসমা বিবি হাতির সামনে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, হাতিগুলো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিল। ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তারা বাগানের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পর হাতিগুলোকে তাড়িয়ে গভীর বনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রামু থানার পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলোর সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ার ফলে বন্য প্রাণীর সঙ্গে মানুষের এই সংঘাত বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।