মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। গত ৪ এপ্রিল তৎকালীন ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় বদলি করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনারের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বদলির আদেশ জারি করা হলেও, আজ পর্যন্ত নতুন কোনো ইউএনও যোগদান করেননি। এতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবে ইউএনওর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূমি প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, ত্রাণ বিতরণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ইউএনওর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। কিন্তু পদটি শূন্য থাকায় এসব কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের ওপর।
বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত সেবা, বিভিন্ন সনদপত্র প্রদান, উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন ও তদারকি—এসব কাজে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জরুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অভাবে অনেক আবেদনপত্র ঝুলে রয়েছে। তাছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রেও কার্যকর নেতৃত্বের অভাব অনুভূত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে জনসেবার গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাদের প্রশ্ন—আর কতদিন লোহাগাড়াবাসী মৌলিক প্রশাসনিক সেবা থেকে বঞ্চিত থাকবে?
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, জনস্বার্থ বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে একজন যোগ্য ও দক্ষ ইউএনও নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হোক। অন্যথায়, জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।