মনির আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতিতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার রক্তাক্ত ও আতঙ্কিত পরিবেশের মধ্যেও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় যুবক রিদুয়ান। দুর্ঘটনার পর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যাত্রীদের মূল্যবান মালামাল নিরাপদে উদ্ধার করে থানায় জমা দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
শনিবার (৯ মে) সকাল ১১টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ফোরসিজন রেস্টুরেন্টের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুটি যাত্রীবাহী বাস। একটি বাস চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল এবং অপরটি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী ছিল। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন অন্তত দুইজন এবং আহত হন অর্ধশতাধিক যাত্রী। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের ব্যাগ, মোবাইল, কাপড়চোপড় ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী। বিশৃঙ্খল সেই পরিস্থিতিতে অনেকে যখন আহতদের উদ্ধারে ব্যস্ত, তখন স্থানীয় যুবক রিদুয়ান দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে একে একে মালামালগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করেন। পরে তিনি মোট ৬টি ব্যাগ ও বিভিন্ন জিনিসপত্র লোহাগাড়া থানায় জমা দেন, যাতে প্রকৃত মালিকরা সহজেই তাদের হারানো সম্পদ ফিরে পেতে পারেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রায়ই কিছু অসাধু ব্যক্তি আহত কিংবা নিহত যাত্রীদের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এমন বাস্তবতার মধ্যে রিদুয়ানের সততা ও মানবিক আচরণ এলাকাবাসীর কাছে ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে প্রশংসার ঝড় বইছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, “মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে”, “এমন তরুণরাই সমাজের গর্ব” এবং “দুর্ঘটনার অন্ধকারেও রিদুয়ানের মতো মানুষ আশার আলো দেখান।”
এদিকে নিহতদের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম রেহেনা বেগম (৬০)। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাথরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার নির্মমতার মধ্যেও স্থানীয় যুবক রিদুয়ানের এই সততা ও দায়িত্ববোধ নতুন করে মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে পুরো এলাকায়।