আতিকুর রহমান আশিক
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ঈদ আসছে। শহরের বিপণিবিতানগুলোতে নতুন পোশাকের ভিড়, ঘরে ঘরে উৎসবের প্রস্তুতি। অথচ সেই আনন্দের বাইরেও আছে আরেক পৃথিবী। যেখানে ঈদ মানে নতুন জামা নয়, সেমাই নয়, মেহেদীও নয়। যেখানে ছোট ছোট শিশুরা ঈদের দিনটাও কাটায় অভাব আর অবহেলার মধ্যে।
মানিকগঞ্জের বেউথা এলাকার এমন কিছু সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতেই এবার ঈদের আগে রঙ ছড়িয়ে দিল একদল তরুণ। মেহেদীর ছোট্ট নকশায় তারা খুঁজে পেল উৎসবের আনন্দ, ভালোবাসা আর একটু আপন হয়ে থাকার অনুভূতি।
সোমবার (২৬ মে) পড়ন্ত বিকেলে দিশারী স্কুল প্রাঙ্গণে ‘মেহেদী উৎসব’ আয়োজন করে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দিশারী পরিবার’। সেখানে বস্তি ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের হাতে যত্ন করে মেহেদী পরিয়ে দেন সংগঠনের সদস্যরা। কেউ হাত বাড়িয়ে চুপচাপ বসে ছিল, কেউ মুগ্ধ চোখে দেখছিল নিজের হাতের ফুল-লতা আঁকা নকশা। অনেক শিশুর মুখেই তখন এক ধরনের বিস্ময়, যেন জীবনে প্রথমবার তারা ঈদকে এত কাছ থেকে ছুঁতে পারছে।
মেহেদী পরার পর নিজের দুই হাত বারবার দেখছিল ৮ বছরের তানিয়া। হাসতে হাসতে বলছিল, আমি এবার ঈদে আপার মতো হাত রাঙাইছি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার দাদি চুপচাপ মেয়ের মুখের হাসি দেখছিলেন।
১০ বছরের রাব্বি জীবনে এই প্রথম হাতে মেহেদী পরেছে। হাতের নকশার দিকে তাকিয়ে সে বলল, আমার হাতও সুন্দর লাগতেছে, আমিও ঈদ করমু। তার কণ্ঠের সেই আনন্দ ছুঁয়ে যায় আশপাশের সবাইকে।
দিশারী কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি শামিম জোপা বৃষ্টির সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হাসান শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, দিশারী পরিবারের উপদেষ্টা রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তুষারসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাও শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। কেউ তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, কেউ গল্প করেন, কেউ আবার মেহেদী রাঙানো ছোট্ট হাতগুলোর দিকে তাকিয়ে নীরবে হাসেন।
দিশারী পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদের আনন্দ সমাজের সব শিশুর জন্য সমান হয় না। অনেক শিশু আছে, যারা ঈদের দিনেও অবহেলিত থেকে যায়। সেই শিশুদের একটু আনন্দ দিতে, তাদের মনে উৎসবের অনুভূতি পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন।
দিশারী কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি শামিম জোপা বৃষ্টি জানান, বর্তমানে দিশারী স্কুলে ৪৫ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু পড়াশোনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাসিক ৫০ টাকার চাঁদায় পরিচালিত এ স্কুলে তারা অবসর সময়ে নিজেরাই পাঠদান করেন। গত ছয় বছর ধরে ঈদের আগে আয়োজিত এই মেহেদী উৎসবে শিশুদের মুখের হাসিই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।