ফরিদ আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের ভিটিবিশাড়া গ্রামে যমুনা খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্ট করে নিয়মবহির্ভূতভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে ভিটিবিশাড়া এলাকার খননকৃত খালসংলগ্ন খলাঘাট ব্রিজে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে কৃষক, জমির মালিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বিল্লাল সরকার, সাইদুল ইসলাম ফটো, তুহিন সরকার, সজল সরকার, মো. আসাদুজ্জামান, আল আমিন, আবু মোসা ও লতিফ হোসেনসহ স্থানীয়রা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এলাকার সীমিত আবাদি জমির ওপর নির্ভর করেই অধিকাংশ কৃষক জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু খাল খননের নামে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাপক পরিমাণ মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে খালের দুপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কৃষক তাদের আবাদি জমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও জানান তারা।
তারা বলেন, খাল খননের বিরোধিতা নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক ও জনস্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন চান তারা। প্রকল্পেরন নকশা, ব্যয়ের হিসাব ও এস্টিমেট জনসম্মুখে প্রকাশ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ পরিচালনার দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কৃষক লতিফ হোসেন বলেন, “প্রকল্প অনুযায়ী ৮ ফুট গভীরতায় খাল খননের কথা থাকলেও অনেক স্থানে ২০ ফুট পর্যন্ত গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকদের শেষ সম্বল আবাদি জমিও হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, খাল খনন শুরুর আগে স্থানীয় কৃষক কিংবা খালের দুই পাশের জমির মালিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের মতবিনিময় করা হয়নি। এছাড়া স্থানীয়রা একাধিকবার প্রকল্পের নকশা ও এস্টিমেট দেখতে চাইলেও সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খালিদ বিন মনসুর বলেন, “মানববন্ধনের বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের নামে কৃষিজমি ধ্বংস ও মাটি বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকার কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।