রকি হাসান,
স্টাফ রিপোর্টার।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কিশোরগঞ্জে কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ, অসহনীয় গরম এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অস্বস্তি ও দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সকাল থেকেই সূর্যের তীব্র তাপ অনুভূত হচ্ছে। দুপুর গড়াতেই জেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি কমে যায়। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। কর্মব্যস্ত মানুষেরাও কাজের ফাঁকে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং বারবার পানি পান করছেন।
কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল কমে গেছে। রাস্তার পাশের শরবত ও ডাব বিক্রেতাদের দোকানে ভিড় বেড়েছে। অনেকেই গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে ঠান্ডা পানীয় ও ফলমূলের দিকে ঝুঁকছেন।
এদিকে তীব্র গরমের কারণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জ্বর, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও গরমজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হওয়ার ফলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই সবাইকে বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি ওরস্যালাইন, ফলের রস ও তরলজাতীয় খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। অপ্রয়োজনীয়ভাবে রোদে বের না হওয়া, ছাতা ব্যবহার করা এবং হালকা রঙের পোশাক পরিধান করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
কৃষি খাতেও গরমের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, তীব্র রোদে মাঠে কাজ করতে গিয়ে তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পশুপালকদের প্রাণীদের পর্যাপ্ত পানি ও ছায়াযুক্ত স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত বৃষ্টিপাত হলে এই অসহনীয় গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।