মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর কলাউজানে খালাদাদ জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের বহু পরিবারের একমাত্র দাফনস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এলাকাবাসীর দাবি, শত বছরের পুরোনো এ কবরস্থানটি সবসময় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং এটি স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। একই সমাজের এ কবরস্থানকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। কবরস্থানের পাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কবরস্থানের সংলগ্ন এলাকায় বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ শুরু হলে একপক্ষ অভিযোগ তোলে যে, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত কবরস্থানের কিছু অংশ দখল করে বাউন্ডারি নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এ ধরনের নির্মাণকাজ কবরস্থানের স্বাভাবিক ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষ জানায়, তারা নিজেদের খতিয়ানভুক্ত ও বৈধ মালিকানাধীন জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য বাউন্ডারি নির্মাণ করছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালেই বিষয়টির একটি সমাধান হয়েছিল এবং বিএস খতিয়ান (উত্তর কলাউজান-২০০) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা তাদের নামে রয়েছে। তারা আরও বলেন, কারও জমি দখল করা বা জনসাধারণের চলাচলে বাধা দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। যদি তারা প্রকৃত মালিক না হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।
অভিযুক্ত পক্ষের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষায় প্রচার চালানো হয়েছে এবং সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, “জেলা পরিষদের সার্বজনীন কবরস্থানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কবরস্থানের বিভাজনমূলক বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সুযোগ নেই। যদি সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সরকারি অর্থে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ হলে তা কবরস্থানের চারপাশে হওয়া উচিত, মাঝখানে বিভাজন সৃষ্টি করে নয়।”
ঘটনার সত্যতা ও জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভূমি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে, যাতে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং কবরস্থানের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।