1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে ৬ কোটি টাকার আটক পণ্য গায়েব - bdtelegraph24.com
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অভয়নগরে শারদীয় দুর্গোৎসবে লোকশিল্প ও ঐতিহ্যের থিম ধারাবর্ত বিইউপিতে আন্তর্জাতিক মডেল জাতিসংঘ সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত চুনতি অভয়ারণ্যে রাতের আঁধারে ময়লা, বনকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির পরিচয় ও মামলার প্রেক্ষাপট অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাবনা পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে আখ চাষিদের প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে কোস্ট গার্ড সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার অপূর্ব ফের ৪ দিনের রিমান্ডে অভয়নগরে নিজ বাড়ি থেকে বৃদ্ধার গলাকাটা লাশ উদ্ধার

বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে ৬ কোটি টাকার আটক পণ্য গায়েব

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ১৩৭ জন খবরটি পড়েছেন

নজরুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি ।

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

বেনাপোল বন্দরে শেড ইনচার্জদের সহায়তায় গড়ে উঠা ভংয়কর শুল্কফাঁকিতে মেতে উঠেছে একটি চক্র। ফলে কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্য চালান ছোঁয়ার আগেই কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চালান গায়েব হয়ে যায় বন্দর থেকে।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বেকিং পাউডার ঘোষণায় ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের শাড়ি, থ্রিপিস, বেবিওয়্যার ও প্রসাধনী চালান আটক করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দু-একটি চালান আটক হলেও বন্দর কর্মকর্তাদের কারসাজিতে সেখানে থাকে না আটক পণ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত (১২ মার্চ) রাতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে পণ্য চালানটি জব্দ করা হয়। রহস্যজনকভাবে বন্দরের জিম্মায় রাখা শুল্ক ফাঁকির সেই চালান থেকে গায়েব হয়ে গেছে (উচ্চ শুল্কযুক্ত) দামি ভারতীয় পণ্য। তার বদলে সেখানে রাখা হয়েছে অতি নিম্নমানের দেশীয় শাড়ি, থ্রিপিসসহ অন্যান্য সামগ্রী। কোরবানি ঈদের ছুটির মধ্যে এই ঘটনায় বন্দরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা, স্থলবন্দরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে বন্দরের ভেতরের কারও সহযোগিতা ছাড়া এমন দুঃসাহসিক চুরি ও জালিয়াতি সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব পরিশোধে চরমপত্র দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ ১২ মার্চ ভারত থেকে একটি পণ্যচালান আমদানি করে। চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর ৬০১২০২৬০০১০০১৬৩৩৩। সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে চালানটি গ্রহণ করে বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। পরে চালানটি বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাখা হয়। আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে বেকিং পাউডারের ঘোষণা দেওয়া হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। পরীক্ষাকালে ১০৮ কার্টনে ঘোষণা বহির্ভূত প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় দামি শাড়ি, থ্রিপিস, বেবিওয়্যার, ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়। কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, এসব পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির মাধ্যমে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের কাস্টমস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় চালানটি জব্দ করে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়। একইসঙ্গে আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চালানটি খালাস না করতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত নির্দেশ দেয় কাস্টমস। সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।কাস্টমস সূত্র জানায়, ১২ মার্চ, ২ এপ্রিল ও ২০ মে পৃথক তিনটি চিঠিতে চালানটির ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কোরবানি ঈদের ছুটির মধ্যে তালাবদ্ধ ৩৭ নম্বর শেডে রাখা চালান থেকে জব্দ করা ভারতীয় পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়। পরে সেখানে দেশীয় নিম্নমানের বিকল্প পণ্য রাখা হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দারা বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করলে ২ জুন বন্দর ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চালানটি পুনরায় কায়িক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এর আগেও ‘হুদা ইন্টারন্যাশনাল’ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনাপোল দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আনা গত (২২ অক্টোবর) বন্দরের ৪২ পণ্যগার থেকে ঘোষণা বর্হিভূত ১০ লাখ ৮০ হাজার জিলেট ব্লেড ও তিন প্যাকেজ অতিরিক্ত ঘোষণা বহির্ভূত পণ্যসহ আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে সে যাত্রায় কাস্টমসের এক উর্দ্ধত্বন কর্মকর্তাকে মোটা অংকে মনরঞ্জন করে ছাড় পেয়েছে। 

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, আমদানি করা ভারতীয় দামি পণ্যের পরিবর্তে যে দেশীয় পণ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো বাংলাদেশি বসুন্ধরা ও মেঘনা শিল্প গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির নাম মুদ্রিত কার্টনে রাখা ছিল। এছাড়া দেশীয় সংবাদপত্রে মোড়ানো এবং বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত পিপি বস্তাও পাওয়া গেছে। এসব আলামত প্রমাণ করে পণ্যগুলো দেশের ভেতর থেকেই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দরের প্রতিটি শেডে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল ও সিসিটিভি নজরদারি রয়েছে। ৩৭ নম্বর শেডটি থাকে তালাবদ্ধ। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া সেখানে প্রবেশ করে কয়েক কোটি টাকার পণ্য সরিয়ে নেওয়া কার্যত অসম্ভব।
ঘটনার পর ৩ জুন কাস্টমস হাউস থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, কাস্টমস আইনের বিধান অনুযায়ী জব্দ করা পণ্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব ওয়্যারহাউজ রক্ষকের। বন্দরের জিম্মায় থাকা অবস্থায় পণ্য পরিবর্তন ও সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। এ কারণে হারানো পণ্যের বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব বন্দর কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে। একই চিঠিতে ৩৭ নম্বর শেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও কাস্টমসকে জানাতে বলা হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। শেড ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজালালকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মো. রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান দাবি করেন, জব্দ হওয়া চালানটির খালাসের জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি। রাজু নামের এক ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এসব অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় কাস্টমসকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।সচ্ছ সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ঘটনা কেবল একটি চালান গায়েব নয় এটি বন্দরের ভেতরে গজিয়ে ওঠা ভয়ঙ্কর শকুনের থাবা। যে থাবায় আক্রান্ত হয়েছে প্রশাসনের নৈতিক ভিত্তি। আর বন্দরের ভেতরকার অসাধু কর্মকর্তার বহুদিনের অনিয়ম, দুর্বলতা ও দায়হীনতার নগ্ন প্রতিচ্ছবি। যা সরকারের রাজস্ব আদায়ের জন্য বড় সতর্ক সংকেত আর হুমকির মুখে পড়েছে রাজস্ব আদায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমে মিথ্যা ঘোষণায় বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়। পরে কাস্টমস চালানটি জব্দ করলে বন্দরের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই জব্দ করা দামি পণ্য সরিয়ে ফেলে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে বিশেষ করে হুদা এন্টারপ্রাইজের রানা, বন্দরের স্কেল কারসাজির হোতা রনি-সুইট ৩৭ নং শেড ইনচার্জ শাহজালাল অন্যতম। এ ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। 

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar