বাঘারপাড়া প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের বাঘারপাড়ায় থাইরয়েডজনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী হাসিনা বেগম জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তার থাইরয়েডের জটিলতা ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। গলার ক্ষত থেকে অবিরাম রক্তক্ষরণ হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে খেতে, হাঁটতে কিংবা বসতেও পারছেন না তিনি। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার না হওয়ায় দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের শেখপাড়ার বাসিন্দা হাসিনা বেগম চার সন্তানের জননী। একসময় স্বামী-সন্তান নিয়ে অভাবের মধ্যেও তার সংসার ছিল। কিন্তু একের পর এক পারিবারিক বিপর্যয় পরিবারটিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের ছাপড়া ঘরের স্যাঁতসেঁতে বারান্দায় শুয়ে আছেন হাসিনা বেগম। গলা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেছে এবং সেখান থেকে রক্ত ঝরছে। কথা বলতে কষ্ট হলেও তিনি অস্পষ্ট কণ্ঠে বলেন, “আমাকে তোমরা বাঁচাও বাবারা। আল্লাহ তোমাদের ভালো করবেন।”
তার ছোট মেয়ে সাগরিকা বেগম জানান, ২০১৭ সালে চিকিৎসার অভাবে তার বাবা মারা যান। এরপর পরিবারের দায়িত্ব নেয় ছোট ভাই। কিন্তু ২০২০ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সেই ভাইয়েরও মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই পরিবারে চরম আর্থিক সংকট শুরু হয়।
সাগরিকার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে তার মায়ের থাইরয়েড ধরা পড়ে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শুরুতে কবিরাজি ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেওয়া হয়। পরে গলার সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে। একসময় গলায় ক্ষতের মতো অংশ তৈরি হয় এবং সেখান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
তিনি বলেন, “মা কোনো শক্ত খাবার খেতে পারেন না। শুয়ে থাকা অবস্থায় খাবার তুলে দিতে হয়। চিকিৎসার জন্য ধারদেনা ও সঞ্চিত অর্থ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছি।”
পরবর্তীতে ঢাকায় একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তিনি দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের হিসাবে অস্ত্রোপচার ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ব্যয় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন। এছাড়া অস্ত্রোপচারের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকার ওষুধ ও ইনজেকশন লাগছে।
অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান সাগরিকা। মায়ের পাশে থাকতে গিয়ে তিনি নিজের সংসারও হারিয়েছেন। বেনাপোলে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে মায়ের কাছে ফিরে আসার পর স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে।
বর্তমানে মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি হাটে-ঘাটে ভিক্ষা করছেন এবং বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করছেন। তবে দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বেশি আয় হয় না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাগরিকা বলেন, “মা ছাড়া আমার আর কেউ নেই। আমি চাই মা বেঁচে থাকুক। সমাজের সহৃদয় মানুষদের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি।”
নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবলু কুমার সাহা বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। দুই শতক জমির ওপর একটি টিনের ঘর ছাড়া তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ নেই। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি হাসিনা বেগমের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।