নজরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
বুধবার (১ জুলাই), দুপুর ২টা ১০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানঘর ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, বর্তমানে নির্ধারিত স্থানে মসজিদ নির্মিত হলে উপজেলার বৃহত্তম কাঁচাবাজারের প্রায় ১২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নিকটস্থ বিকল্প স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শনিবার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানঘর ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শফি উদ্দীন লিখিত বক্তব্যে এই দাবি জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে ২৩ নম্বর খতিয়ানের ৬৮১ নম্বর দাগে মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই স্থানের পরিবর্তে ৩০০ থেকে ৪০০ গজ উত্তরে পাবলিক লাইব্রেরির পেছনে একই খতিয়ানের ৬৫৩ নম্বর দাগে মসজিদটি নির্মাণ করা হলে বাজারের কোনো ক্ষতি হবে না।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, প্রস্তাবিত স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে প্রায় ৬০টি স্থায়ী ও ৬০টি অস্থায়ী দোকানসহ মোট ১২০টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর সঙ্গে প্রায় তিন হাজার পরিবারের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। তারা স্পষ্ট করেন যে, তারা মডেল মসজিদ নির্মাণের বিরোধী নন, তবে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি যেন স্থানীয় বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অক্ষত থাকে, সেই উপযোগী স্থানেই এটি নির্মাণ করা উচিত।
এ বিষয়ে বিসমিল্লাহ হোটেলের মালিক মো. আনিচুর রহমান গত ৯ জুলাই হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত নির্ধারিত ৬৮১ নম্বর দাগের ওপর তিন মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি চক্রান্ত করছেন। এছাড়া কথিত কাঁচাবাজার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দোকানঘর দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনৈতিকভাবে আদায় করেছেন বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে পুরো বিষয়টি তদন্তপূর্বক ৬৫৩ নম্বর দাগে মডেল মসজিদ নির্মাণের ব্যবস্থার নেওয়ার জোর দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হাট মালিক আতিকুর রহমান লেটুসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।