নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর), রাত ৯টা ৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মৎস্য অধিদপ্তরের ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিলের ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এরপর বুধবার থেকে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির সব প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে।
আমদানি বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কম মূল্য দেখিয়ে আমদানির মাধ্যমে অর্থপাচার রোধ এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে জেলেদের আগ্রহ বাড়াতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বেশি লাভের আশায় ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বেড়ে গিয়েছিল। প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার দেখিয়ে রাজস্ব পরিশোধ করে পণ্য ছাড় করা হতো। পরে বাজারে এসব মাছ পদ্মার ইলিশ হিসেবে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইলিশ আমদানিকারক সৈয়দ মহিদুল হক রুবাই বলেন, “হঠাৎ আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমদানির উদ্দেশে ওপারে ইলিশ কিনে রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এছাড়া আমদানি খরচের লোকসান তো রয়েছেই।”
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বুধবার পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে। অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম বলেন, “মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ইলিশ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।”