নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬), সকাল ১১টা ৩৪ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, সহজলভ্য বাজার এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশগুলো এ খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে।
পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার, যার ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করছে রাশিয়া। কেন্দ্রটি চালুর পর জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের পারমাণবিক খাতে রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত হচ্ছে।
এদিকে বাগেরহাটের মোংলায় প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছোট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। গত আগস্টে এক যৌথ সভায় দেশটি এই প্রস্তাব দেয়। এটি বাস্তবায়িত হলে স্মল মডুলার রিয়্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে এটিই হবে প্রথম প্রকল্প।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “এসএমআর প্রযুক্তি সম্পর্কে আমাদের আরও বিস্তারিত জানতে হবে। এই প্রযুক্তিতে আমাদের আগ্রহ আছে। তবে বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝার পরই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।”
অন্যদিকে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এতে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এটি সরাসরি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা জ্বালানি সরবরাহের কোনো চুক্তি নয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, “দুই দেশের আগ্রহের কারণ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক। আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা আছে এবং আমরা কম খরচে বিদ্যুৎ চাই। পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্কও সহজ হয়।”
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমতউল্লাহ বলেন, “বিশ্বের পরাশক্তিরা আমাদের দেশের প্রতি আগ্রহ দেখায়। তারা চায় আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণে পরমাণু ব্যবহার করি। ছোট দেশ হলেও এই তিন পরাশক্তির জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ।”
বর্তমানে রাশিয়া প্রকল্প নির্মাণ করছে, চীন নতুন কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হয়েছে। এখন বিদেশি দেশগুলোর এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।