কক্সবাজারের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২১ জুন) ভোর রাতে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নিহতরা হলেন- ওই এলাকার নজির হোসেনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (২৬) ও মাইমুনা আক্তার (২০)। তারা দুজন স্বামী-স্ত্রী। নিহত আনোয়ার স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। পারিবারিকভাবে ৯ মাস আগে মাইমুনাকে বিয়ে করেন আনোয়ার। তার স্ত্রী মাইমুনা ৫ মাসের গর্ভবতী ছিলেন বলে স্বজনরা জানান।
জানা যায়, এদিন রাতে খাবার খেয়ে স্ত্রীসহ ঘুমিয়ে পড়েন আনোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই কক্সবাজার শহরে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত ৩টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পাহাড়ের খাদের নিচে থাকা তাদের ঘরটির ওপর বড় একখণ্ড মাটি পড়ে। এতে দুজনই মাটি চাপা পড়ে মারা যান।
এদিকে নিহতের মা মমতাজ বেগম একমাত্র ছেলে আনোয়ার ও বউ মাইমুনাকে হারিয়ে এখন তিনি নির্বাক। চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মমতাজ বেগম বলেন, আমার ছেলে বাদশাঘোনা ওমর ফারুক (রা.) জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। রাতে যখন ভারি বৃষ্টি হচ্ছিল, আমার ঘরে আসার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু সে সমস্যা হবে না বলে ঘুমাতে চলে যায়। আমি কী জানতাম, ছেলের এ ঘুমই জীবনের শেষ ঘুম হবে। এভাবে বলতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মমতাজ বেগম।
প্রত্যক্ষদর্শী নুরুল আমিন বলেন, ‘চিৎকার শুনে দ্রুত আনোয়ারের ঘরে ছুটে আসি। তখন খাটের ওপর আনোয়ার ও মাইমুনা একে অন্যের হাত ধরে ছিলেন। আর তাদের শরীরের ওপর ধসে পড়া মাটি ছিল। কয়েকজন মিলে দ্রুত মাটি সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।