প্রতিনিধি, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের খোলপেটুয়া গ্রামে কৃষকলীগ নেতা আবুল কাশেমকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কারাগারে থাকা চার আসামীর পরিবারের নারী সদস্যদের বেঁধে রেখে ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নির্যাতনের পর বাড়ির সর্বস্ব লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই শুক্রবার ও ১৬ জুলাই মঙ্গলবার তিবাগত মধ্য রাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের খোলপেটুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে আবুল কাশেম হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা এজাহার বর্হিভুত আসামী মোঃ নজরুল ইসলাম গাজীর স্ত্রী আঙুর বেগম (৪৩) বুধবার রাত ১২টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আসামী লোকমান গাজীর রিমাণ্ড শুনানীর জন্য আগামি ২৮ জুলাই রবিবার দিন ধার্য করা হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের খোলপেটুয়া গ্রামের মর্জিনা খাতুন জানান, তার স্বামী গাবুরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান গাজী। আবুল কাশেম হত্যা মামলায় তার স্বামী আত্মগোপনে থাকার সময় গত ১৬ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত একটার দিকে নিহত আবুল কাশেমের ভাই জাফর আলী, তার ছেলে মিন্টু, ভাগ্নে মাকছু, চাচাত ভাই আব্দুল্লাহ, তার ছেলে নূরে আলম, জাফর আলী কাগুচীর ভাগ্নে চাঁদনীমুখা গ্রামের আলম ও আরিফুল, এশার আলী কাগুচীর ছেলে শফিকুল কাগুচীসহ ১০/১২জন তাদের ঘরে ঢুকে তাকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে খাট, আলমারি, টিভি, ফ্রিজ, হাড়ি পাতিলসহ সংসারের ব্যবহার্য জিনিসপত্র দা ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে তছনছ করে। পরে তারা কারাগারে থাকা নজরুল গাজীর বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে স্ত্রী আঙুর বিবি বাধা দেয়। তখণ তাকে হামলাকারিরা লাঠি দিয়ে মারপিট করে চলে যায়। ১৮ জুলাই লোকমান গাজী আদালতে আত্মসমর্পণ করে। লুটেরাদের আঘাতে বিনা চিকিৎসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আঙুর বিবি বুধবার রাত ১২টায় মারা যান।
আবুল কাশেম হত্যা মামলায় কারাবন্দি খোলপেটুয়া গ্রামের আব্দুস সালাম গাজীর স্ত্রী মাহফুজা খাতুন জানান, তার স্বামী এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী নন। গত ১৪ জুলাই ভোর চারটার দিকে তাকে ও ভাসুর মুসা গাজীসহ ছয়জনকে নড়াইলের তুলারামপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা জেল হাজতে থাকাকালিন গত ১৯ জুলাই শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে লোকমান গাজীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলাকারিরা মুসা গাজী ও তাদের বাড়ির বেড়া ভাঙচুর করে ঘরে ঢোকে। এ সময় তারা তাকে ও শ্বাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে বেঁধে রেখে ভয় ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে থাকা ৫০ মণ ধান, দুটি ফ্রিজ, দুইটি ড্রেসিংটেবিল, একটি মটর সাইকেল, তিনটি রাইস কুকার, দুটি প্রেসার কুকার, চারটি সিলিং ফ্যান, ১০টি রাজহাঁস, ১০টি মুরগি, তিনটি খাসিসহ প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
মাহফুজা খাতুন আরো জানান, তাদের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তাকে নিয়ে মর্জিনা খাতুন গত ২১ জুলাই শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেন্ট্রি ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্য তাদেরকে থানায় ঢুকতে দেননি। সন্ধ্যার পরে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে আসতে বলেন তিনি। সম্প্রতি জেলায় ১৪৪ ধারা বহাল থাকায় তারা আর থানায় যেতে পারেননি।
এ ব্যাপারে জাফর কাগুচি বলেন, হত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আসামীপক্ষ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক সরল কুমার বিশ্বাসের সাথে বৃহষ্পতিবার বিকেলে তার মুঠোফোনে বারবার যোগোযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন কর দেন।
যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে।
প্রসঙ্গত, খোলপেটুয়া গ্রামের চিংড়ি ঘেরের ২৫ বিঘা জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৪ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে চিংড়ি ঘেরের ডিঙি নৌকায় স্ত্রী ফিরোজাকে বেঁধে রেখে গাবুরা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম কাগুচীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন বাদি হয়ে আবু মুসা গাজী, লোকমান গাজী, আব্দুর রহিম, শুকুর আলী সরদার, মিজান গাজী, সালাহউদ্দিন গাজী, সেকেন্দার গাজী ও আবু শ্যামা গাজীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮ জনের বিরুদ্ধে ৫ জুলাই শ্যামনগর থানায় হত্যা মামলা(৫নং) দায়ের করেন।