প্রতিনিধি, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)। মিথ্যা অপপ্রচার থেকে রক্ষা পেতে শ্যামনগর উপজেলার ৫নং কৈখালী ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের সংবাদ সম্মেলন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মঙ্গলবার ১০ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় প্রেসক্লাব হল রুমে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি শেখ আব্দুর রহিম (চেয়ারম্যান) ৫নং কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদ। আমি দীর্ঘদিন ইউরোপে প্রবাস জীবন শেষ করে ইউনিয়ন বাসীর খেদমত করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করি এবং বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে দুই-দুই বার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আমি সক্রিয় ভাবে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়ায়নি। শুধু মাত্র রাষ্ট্রীয় আচার, অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক থাকায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া প্রোগ্রামে বাধ্য হয়ে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। এরপরও স্থানীয় এমপি, অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ ও আমলা এবং আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম আমাকে জামায়াত ইসলামের অর্থদাতা/ ডোনার সাজিয়ে আমার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা মামলা সহ ধর্ষণ চেষ্টা, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা সহ ৫০টির অধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে মাসের পর মাস কারা অভ্যন্তরে রেখেছে। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অধ্যবদি মিথ্যা মামলা ও হামলা অব্যহত রয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ই সেপ্টেম্বর রোজ রবিবার হতদরদ্রি ফেয়ার প্রাইজ কার্ডধারীদের কে আওয়ামীলীগ পদ-পদবী ধারী ডিলিয়ারদের যারা মিথ্যা ভয়ভীতি প্রর্দশনের মাধ্যমে শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সামনে একত্রিত করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মানববন্ধন করেন এবং তার সাথে অত্র ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন ইউপি সদস্যও উপস্থিত আছেন বলেও অপপ্রচার চালায় যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উক্ত মানববন্ধনে কৈখালীর এক চরিত্রহীন মামলাবাজ ব্যবসায়ী নারীকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ানো হয়। উক্ত মহিলাকে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে কৈখালী তথা শ্যামনগরের শ্রেষ্ঠ মিথ্যা মামলাবাজ রেজাউল করিম ব্যবহার করে আমাকে সহ বিভিন্ন সম্মানী মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষন চেষ্টা মামলা করাতেন, যার প্রত্যেকটি মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সেই একই মহিলাকে ব্যবহার করে মেন্দীনগর নিবাসী মৃত সিদ্দিক গাজীর ছেলে গাজী শাহ আলম কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদানে উদ্বুদ্ধ করেছে।
কৈখালী ইউনিয়নের জেলেকার্ড তালিকা প্রস্তুত এবং ফেয়ার প্রাইজ এর তালিকা ও ডিলিয়ার নিয়োগ হয়েছে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এবং উক্ত ডিলিয়ারগন আওয়ামীলীগের পদ-পদবীধারী নেতা এবং কৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম এর ভাই, বোন জামাই ও নিকটতম আত্মীয়। এই ডিলিয়ার গনের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক, বিজ্ঞ সিনিয়র আদালতে আমি নির্বাচিত হওয়ার পরে অভিযোগ করি। রেজাউল ও ডিলিয়ার গন তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে ও আমাকে ফাঁসাতে হত দরিদ্র, অসহায় এই গরীব কার্ডধারীদের কে ভুল বুঝিয়ে বছরে একাধিক বার শ্যামনগর সদরে জড়ো করে এবং মিথ্যা মানববন্ধন করে।
গত নির্বাচনে আমাকে একাধিক মিথ্যা মামলায় জড়ানোর কারণে আমি নির্বাচনী প্রচার প্ররোচনায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারিনি এমনকি নিজের ভোট টিও দিতে পারেনি। সেই নির্বাচনে আল্লাহর রহমত ও সাধারণ মানুষের ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হলেও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে ও বর্তমানে আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র সহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা, হামলার যড়যন্ত্রের অপচেষ্টা করে চলেছে গাজী শাহ আলম।
গত ৫ই আগস্ট নতুন করে দেশ স্বাধীন হওয়ার দিনে সন্ধ্যার পরে গাজী শাহ আলমের নেতৃত্বে কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর ও ভেড়ার মোড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ অনান্য ব্যবসায়ীদের দোকান ভাংচুর করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল লুটপাট করার পর নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয় যাহা ভুক্ত ভোগীগন বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার অপকর্ম গুলি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য গত ৬ই আগস্টে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন মামলা হামলার, ভিজিডি, রেশন কার্ড, জেলে কার্ড সহ, জমি জায়গা বে-দখলের ভয় দেখিয়ে লোকজন একত্রিত করে কৈখালীর যাদবপুর বাজারে জনসমাবেশে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মানহানীকর কুরুচীপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
তারই ধারা বাহিকতা ও ডিলিয়ার গণের নিকট হতে অর্থ নিয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের যোগসাজশে হতদরিদ্র ও গরীব, অসহায় ফেয়ার প্রাইজ কার্ডধারীদের কার্ড বাতিল হওয়ার কথা বলে মামলাবাজ রেজাউল করিমের মত নিজেদের অপকর্ম গোপন করতে ও আমাকে ফাঁসাতে উক্ত মিথ্যা,ভিত্তিহীন বানোয়াট মানব বন্ধন করেন। সেই সাথে সাথে কৈখালী ইউনিয়নের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের লোপাট হওয়া মালামাল ও জানমাল রক্ষার্থে প্রশাসন ও আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে যৌথ বাহিনীর দৃষ্টি আর্কষণ করছি।