রফিকুল ইসলাম মন্টু দেবহাটা প্রতিনিধি। দেবহাটায় অর্থ আত্নসাৎ ও নিয়োগ বানিজ্যের অপরাধের আসামী দেবহাটা কলেজের প্রভাষক ইয়াছিনের বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষকদের কাছে ৪০ লক্ষ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ইয়াছিন দেবহাটা মৃত দীন আলী গাজীর ছেলে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
অভিযোগে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দোসর ইয়াছিন,বসন্তপুরের শহীদ,নাংলার হারুন বিশ্বাস ও শওকাতসহ আরো কয়েকজনের ইন্ধনে গত ১১ আগস্ট বেলা ১১টার সময় প্রকাশ্য দিবালোকে দেবহাটা সরকারি বি বি এম পি ইনস্টিটিউশনে আসেন। এসময় ইয়াছিন আলীর নেতৃত্বে (১) হারুন বিশ্বাস, পিতা- মৃত আব্দুল জব্বার বিশ্বাস (২) শওকাত আলী, পিতা মৃত কলিম গাজী, উভয় সাং নাংলা (৩) শহীদ, পিতা মহব্বত গাজী, বসন্তপুরকে সাথে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে সকল শিক্ষককে জোর পূর্বক উচ্চ স্বরে ডেকে এনে বলেন, ২০০৭ সালে তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময়ে আপনাদের দেওয়া তথ্য ও লিখিত স্বাক্ষীর কারণে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হুকুমে আমার ও আমার শ্বশুর তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মু: আব্দুর রহিম বিরুদ্ধে মামলা হয়। এতে আমার ১৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়। ঐ সময়ে টাকার মান অনুসারে তা ৯০ লক্ষ হয়েছে। আমি সেখান থেকে আপনাদের ৫০ লক্ষ টাকা মাফ করে দিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চল্লিশ লক্ষ টাকা পরিশোধ না করলে রাস্তাঘাটে লোকজন দিয়ে আপনাদের শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করা হবে”।
তখন শিক্ষকদের মধ্যে সহকারি শিক্ষক মো: আব্দুল্লাহ অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলেন” ভাই, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মো: লুৎফর রহমানের অধীনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের তত্বাবধানে আপনাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছিল”। আমরা কেবল মাত্র সত্য স্বাক্ষী দিয়েছি। এরপরে ইয়াসিন তার সাথীদের নিয়ে বেরিয়ে চলে যান।
এঘটনায় প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে স্কল শিক্ষক গত ১৪ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর সহায়তা চা্ন।
এদিকে ইয়াছিন আলী গত ২০ আগস্ট স্থানীয় কোড়া গ্রামের শাহনেওয়াজ সাজুকে সাথে নিয়ে পুনরায় স্কুলে এসে প্রকাশ্যে বলেন যে, “গত দিন বলে যাওয়া ৪০ লক্ষ টাকা দিন। তখন সকল শিক্ষক অত্যন্ত বিনয়ের সাথে প্রতিবাদ করে টাকা না দেওয়ার বিষয়টি জানান।
একথা শুনে ইয়াছিন স্কুলের ভিতরে আমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেন যে, আজই টাকা না দিলে আপনাদেরকে বিভিন্ন ধরণের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নিঃশেষ করা হবে জেল খাটানো ও চাকরী থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। এভাবে প্রকাশ্যে শিক্ষকদের কাছে ৪০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করলেও নিরীহ শিক্ষক কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পাননি।
শিক্ষকরা জানান, ইয়াছিন এবং তার শ্বশুর আব্দুর রহীম তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নামে মিথ্যা মামলা করায় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্নসাৎ ও নিয়োগ বানিজ্যের অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি হিসেবে মামলাটি থানায় পাঠালে আমাদেরকে বাদী হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
দেবহাটা সরকারি বি বি এম পি ইনস্টিটিউশন এর শিক্ষক গৌর চন্দ্র পাল, শিক্ষক মোঃ আব্দুল্লাহ, শিক্ষক আশরাফুল হাসান, শিক্ষক ফজলুল হক শিক্ষক বিষ্ণুপদ ঘোষ, শিক্ষিকা তাসলিমা পারভীন, শিক্ষিকা রোজি সুলতানা, শিক্ষক আফসার আলী বলেন, ইয়াছিনের টাকা দাবির হুমকীর মুখে সাথে সাথে আমরা প্রধান শিক্ষকের রুমে বিষয়টি নিয়ে বসি। তার এই হুমকীতে আমরা অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্থ অবস্থায় আছি । শ্রেণি কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে পারছি না।
ইতোমধ্যে স্বঘোষিত নেতা শিক্ষক মো: ইয়াছিন আলী, দেবহাটা সরকারি বি বি এম পি ইনস্টিটিউশন এর শিক্ষক /শিক্ষিকার নামে সাতক্ষীরা আদালতে চাঁদাবাজীর মামলা করেছেন। অতিষ্ঠ স্কুলের শিক্ষকরা উপায় না পেয়ে,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। শিক্ষকদের অভিযোগের অনুলিপি অভিভাবকবৃন্দ, সুশীল সমাজ, শিক্ষক সমাজ, রাজনৈতিকবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দের কাছে প্রদান করেন।