রাকিবুল হাসান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।
একসময় কুড়িগ্রামের গ্রামীণ জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ ছিল বাঁশের তৈরি চাটাই, ধারা, চালুনি, কুলা, ডালা, মাছ ধরার ফাঁদসহ নানান ব্যবহারিক পণ্য। রান্নাঘরের কাজ থেকে শুরু করে কৃষিকাজ—সব ক্ষেত্রেই এসব পণ্যের ছিল ব্যাপক চাহিদা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় কারিগররা দক্ষ হাতে তৈরি করতেন এসব শিল্পপণ্য, যা একসময় গ্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র আর আগের মতো নেই। প্লাস্টিক ও স্টিলের সস্তা ও সহজলভ্য পণ্যের বাজারদখলে দ্রুত হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশশিল্পের এই ঐতিহ্য। স্থানীয় কারিগরদের অভিযোগ, আগে উৎসব, মৌসুমি কাজ কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রচুর অর্ডার আসত। এখন সেই বাজার প্রায় শূন্যের কোঠায়। কম দামে প্রতিযোগিতা করতে না পারা, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে এই পেশায়।
কারিগর পরিবারের অনেকেই পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন। যেসব পরিবার এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তারা বলছেন—সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক বাজারসংযোগ ও প্রদর্শনী-মেলা আয়োজনের সুযোগ না থাকলে এই শিল্প টিকে রাখা সম্ভব নয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই বাঁশশিল্প পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। সরকারি সহায়তা, নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে গ্রামীণ এই মূল্যবান শিল্প।