তৌহিদুল ইসলাম কানন (পলাশবাড়ী উপজেলা, গাইবান্ধা)।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সুদানে জাতিসংঘের (ইউএন) শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মধ্যে একজন হলেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা মো. সবুজ মিয়া। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত সবুজ মিয়া গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি (ছোট ভগবানপুর) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত হাবিবুর রহমান ও ছকিনা বেগমের ছেলে। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে পরিবারের দায়ভার কাঁধে নিয়েই বড় হন সবুজ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৭–৮ বছর আগে সবুজ মিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২০১০ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে মহদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফিরোজ আকন্দ জানান, সবুজ ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র ও পরিশ্রমী একজন মানুষ।
পারিবারিকভাবে সবুজ ছিলেন এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ছোট। তার বড় বোনের বিয়ে হয়েছে আগেই। প্রায় এক বছর আগে নাটোর জেলায় তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তার স্ত্রী নূপুর আক্তার ও মা ছকিনা বেগম গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তিন মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে এসে পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি।
সবুজ মিয়ার মৃত্যুর খবরে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা ও স্ত্রীসহ স্বজনরা। একই সঙ্গে পুরো গ্রামজুড়েই বিরাজ করছে গভীর শোকের পরিবেশ।
নিহতের মা ছকিনা বেগম বলেন, “একটাই ছল হামার, তাকেও মারি ফেলল। তাড়াতাড়ি হামার ছলেক ফেরত চাই।”
স্ত্রী নূপুর আক্তার বলেন,“বিয়ের মাত্র এক বছর আট মাস, তাতেই স্বামীকে হারালাম। আমার জীবনটাই শেষ হয়ে গেল। দ্রুত আমার স্বামীর লাশটি ফেরত চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন,“সবুজ ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। এখন তার মা ও পরিবারের পাঁচজন সদস্য কীভাবে চলবে—সেটাই বড় প্রশ্ন। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত লাশ দেশে আনা হোক এবং পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে পলাশবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ জানান,
“নিহতের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দ্রুত বিস্তারিত জানানো হবে।”
উল্লেখ্য, শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় এই ঘটনা ঘটে। এতে দায়িত্ব পালনরত ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং আরও আটজন আহত হন।