বাংলাদেশে চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বলয়’ গড়ে তুলেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এবার সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরাসহ অন্তত পাঁচ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফাইজ তাইয়েব আহমেদ তাঁর এক ফেসবুক পোস্টে নির্বাচনের এই কারিগরি প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রযুক্তির এই ব্যবহার ভোট জালিয়াতি বা কেন্দ্র দখলের মতো অপকর্ম রোধে বড় ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবার দেশের প্রায় সব ভোটকেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া মোতায়েনকৃত পুলিশ সদস্যদের পোশাকে থাকছে বিশেষ ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’। এই ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে জরুরি প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়ার জন্য ‘এসওএস’ বাটন ও কথা বলার জন্য ‘পুশ টু টক’ ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।
সাধারণ ভোটারদের জন্য এবার অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ভোটের দিন কোনো অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বিশৃঙ্খলার খবর সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছাতে নাগরিকরা জাতীয় কল সেন্টার ‘৩৩৩’ নম্বরে ফোন করতে পারছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত সমন্বয়ের জন্য এবার ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। আনসার সদস্যরা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর এই অ্যাপে রিপোর্ট করলে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকা অন্য বাহিনীগুলো দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারবে। পাশাপাশি পুলিশের নিজস্ব ওয়াকিটকি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন কমিউনিকেশন অ্যাপ, যা গ্রুপ কলিং ও এসকালেশন ফিচারের মাধ্যমে কমান্ড সেন্টারগুলোর সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করছে।
ফাইজ তাইয়েব আহমেদ তাঁর পোস্টে ভোটার ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, “ভোটকেন্দ্রে যেকোনো অপকর্ম রেকর্ড করা থাকবে। তাই আপনার অপরাধ যেন ডিজিটাল রেকর্ডে থেকে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।”