মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র লোহাগাড়ার বটতলী—এ যেন এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের নাম। শহরও নয়, গ্রামও নয়—তবুও এর প্রাণচাঞ্চল্য কোনো নগরকেও হার মানায়। এখানে কি নেই? ঝাঁ চকচকে মার্কেট, সারি সারি দোকানপাট, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান—সব মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ বাণিজ্যিক জনপদ। এমনকি ২৮টি তফসিলী ব্যাংকের উপস্থিতি শুনলে যে কেউ বিস্মিত না হয়ে পারে না; অনেক শিল্পাঞ্চলেও যেখানে এত ব্যাংকের দেখা মেলে না।
প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই বটতলী স্টেশনকে কেন্দ্র করে জীবনের প্রয়োজন মেটায়। হাট-বাজার থেকে শুরু করে বড় বিয়ের কেনাকাটা—সবই মেলে এখানকার মার্কেটগুলোতে। ফলে দূরদূরান্তে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়। বহুতল ভবনের সারি, আবাসনের সুবিধা—৮ থেকে ১০ হাজার টাকার ভাড়ায় অসংখ্য মানুষ এখানে বসবাস করছে। আর বটতলীর কাঁচাবাজার তো প্রতিদিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ, যার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের বহু এলাকায়।
যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বটতলী পিছিয়ে নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসগুলো এখানে যাত্রী ওঠানামা করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—এত কিছুর মাঝেও নেই একটি সুনির্দিষ্ট বাস টার্মিনাল, নেই একটি গণসৌচাগার।
ফলে প্রতিদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে এক বিশৃঙ্খল বাস্তবতা। রাস্তার ওপর এলোমেলোভাবে বাস পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা—সব মিলিয়ে তীব্র যানজট যেন নিত্যসঙ্গী। এই যানজট শুধু সময় নষ্টই করছে না, বরং জনজীবনকে করে তুলছে দুর্বিষহ।
লোহাগাড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—একটি আধুনিক, পরিকল্পিত বাস টার্মিনাল। যা শুধু যানজট নিরসনই করবে না, বরং এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে।
এলাকাবাসীর বিশ্বাস, তাঁদের এই ন্যায্য দাবির প্রতি দৃষ্টি দেবেন এলাকার জনপ্রতিনিধি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করবেন—এমন আশায় বুক বাঁধছে বটতলীর মানুষ।
বটতলী আজ সম্ভাবনার প্রতীক, উন্নয়নের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এক জনপদ। শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা আর সময়োপযোগী পদক্ষেপ—তবেই এই জনপদ হয়ে উঠবে একটি আদর্শ বাণিজ্যিক নগরকেন্দ্র।