মনির আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বটতলী শহর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা সেবাকে কেন্দ্র করে দ্বৈতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহর উন্নয়ন কমিটির অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা একদিকে কমিটির মাধ্যমে বেতনভাতা পেলেও অন্যদিকে আবাসিক ভবন মালিকদের কাছ থেকেও আলাদাভাবে অর্থ আদায় করছেন। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, বটতলী শহর উন্নয়ন কমিটি এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। কমিটির আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে আবাসিক ভবন, মার্কেট ও দোকান মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা মাসিক চাঁদা। সাধারণত আবাসিক ভবনের মালিকদের কাছ থেকে মাসিক ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত চাঁদা আদায়ের পরও অনেক ভবন মালিককে ময়লা অপসারণের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বহুতল ভবনের মালিক জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “টাকা না দিলে সময়মতো ময়লা নেয় না। অনেক সময় দিনের পর দিন ময়লা পড়ে থাকে, ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট হয়। বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বটতলী শহরে সহস্রাধিক আবাসিক ভবন ও অসংখ্য দোকানপাট রয়েছে। এসব ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি আলাদাভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের দাবি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহর উন্নয়ন কমিটির অগোচরে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
ভবন মালিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি তারা নিয়মিতভাবে শহর উন্নয়ন কমিটিকে মাসিক চাঁদা প্রদান করেন, তাহলে একই সেবার জন্য কেন আবার আলাদা অর্থ দিতে হবে? তাদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম অন্যায্য ও হয়রানিমূলক।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে তারা লোহাগাড়া বটতলী শহর উন্নয়ন কমিটি ও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।