মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের কূলপাগলী গ্রামের কৃষক নুরুল কবির এখন এলাকায় সফল কৃষকের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, পরিশ্রম ও পরিকল্পিত চাষাবাদের মাধ্যমে তিনি যেমন ফলমূল চাষে সফল হয়েছেন, তেমনি এবার ধান চাষেও পেয়েছেন ঈর্ষণীয় সাফল্য।
নুরুল কবিরের কৃষিখামারে রয়েছে আম, লিচু, পেঁপে, কলা ও ধানের বিস্তীর্ণ আবাদ। পাশাপাশি তিনি গরু পালনেও ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তার খামারে শত শত গরু প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে।
কৃষক নুরুল কবির জানান, তিনি এবার নিজ উদ্যোগে “যাত শক্তি-২” জাতের ধান এক কানি (৪০ শতক) জমিতে আবাদ করেন। এতে ফলন হয়েছে প্রায় ১৭০ আড়ি বা প্রায় ৪২ মণ ধান। তিনি বলেন, “আমি নিজে মাঠে থেকে পরিচর্যা করেছি। কৃষি অফিসের আরও উন্নত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে এক কানি জমিতে ২০০ আড়ি বা প্রায় ৫০ মণ ধান উৎপাদন সম্ভব।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, নুরুল কবিরের সফলতা প্রমাণ করেছে যে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে কৃষিতেও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। তার খামার এখন এলাকার অনেক তরুণ কৃষকের জন্য অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
শুধু ধান কিংবা ফল চাষ নয়, গবাদিপশু পালনেও তিনি দেখিয়েছেন অসাধারণ দক্ষতা। কূলপাগলী গ্রামের বহু পরিবার এখন তার খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে গরু পালন ও কৃষিকাজে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমন সফল কৃষকদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হলে দেশের কৃষিখাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।