দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজু মিয়া
লালমনিরহাট (কালীগঞ্জ) প্রতিনিধি।
লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহি হাট চাপারহাট এই হাটে ক্ষমতার রদবদল হলেও প্রতিনিয়ত নেয়া হয় গলাকাটা টোল।
১৪৩৩ বাংলা সনে ইজারা পায় মোঃ হাবিবুর রহমান বাচ্চু গং তথ্যসূত্রে জানা জায় আওয়ামী নেতা খোকন ৪ আনা শেয়ার, আর বাকি ১২ আনা সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল এর মামা, ভাগিনা সহ কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা/কর্মীরা শেয়ার রয়েছে বলে জানা যায়। হাট পরিচালনায় তাদের নাম উল্লেখ করেছেন ইজারাদার -সহিদুল্লাহ শহিদ, তাজুল ইসলাম, সামসুজ্জামান সবুজ, কাওছার উর রহমান, হাসানুজ্জামান জুয়েল, রেজাউল করিম সুমন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছেন চাপারহাটে গলা কাটা টোল আদায় করছে ইজারাদার। একাধিক বিক্রেতারা জানান গরু বিক্রয় করে তাদের টোল দিতে হয় ৩৫০ টাকা আর ছাগল বিক্রয় করে টোল দিতে হয় ২০০ টাকা। অন্য দিকে গরু ক্রেতার নিকট টোল আদায় করে গরু প্রতি ৪৫০ টাকা। ছাগল ক্রেতার নিকট টোল আদায় করে ছাগল প্রতি ২০০ টাকা।
গরু বিক্রেতা লেবু মিয়া জানায় আমি একটা গরু বিক্রয় করি ইজারাদার আমার কাছে ৩৫০ টাকা নিয়েছে আমি তখন প্রশ্ন করি চামটাহাটে বিক্রেতার নিকট টোল নেয়নি আপনারা নিচ্ছেন ক্যান, ইজারাদার আমার উপর চটে গেলে ৩৫০ টাকা দিতে বাধ্য হই।
অপর দিকে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর বলছেন গবাধি পশুর শুধুমাত্র ক্রেতার নিকট টোল আদায় করা সরকারী নিয়মের মধ্যে পরে বিক্রেতার নিকট কোন টোল নেওয়ার বৈধ্যতা নেই। আমরা শুধু ভোক্তার অধিকার আদায়ে কাজ করি হাটের বিষয়টা একটু ভিন্ন, হাটের বিষয় গুলো দেখেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভূমি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (জেএম শাখা) মোঃ নওশাদ আলম গত ১৭ মে ২০২৬ ইং তারিখে চামটাহাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় আসলে তিনি বলেছেন চামটাহাটে সরকারের নির্ধারিত টোল আদায় করছে ইজারাদার অপরদিকে ব্যবসায়ীগন চাপারহাটে অতিরিক্ত টোল নেন বলে অভিযোগ তুললে তিনি জানান আগামী কাল আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট যাবে চাপারহাটে। এ কথা বলার প্রায় ১মাস পার হলেও পরিচালিত হয়নি কোন ধরনের মোবাইল কোর্ট। এ বিষয়ে ২১ মে ২০২৬ ইং তারিখে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ নির্ধারণ করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) স্যার, আমি স্যারের সাথে চাপারহাটের বিষয়ে আলোচনা করবো, স্যার অবশ্যই খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আজ অবধি তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী খামারি ও ব্যবসায়ীগন।
এ বিষয়ে ইজারাদার হাবিবুর রহমান বাচ্চু মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি প্রশ্ন এরিয়ে গিয়ে বলেন আমরা বাহিরের ব্যবসায়ীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেই আর আমাদের এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল মহোদয় সব সময় চাপারহাটের তদারকি করে। অতিরিক্ত টোলের বিষয়ে কথা বলতে নারাজ তিনি।
চামটাহাটের ইজারাদার জালাল উদ্দিন অভিযোগ তুলে বলেন চামটাহাটে মদাতী ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা পাহাড়া দেয় যাতে আমরা অতিরিক্ত টোল আদায় না করি। অপর দিকে চাপারহাটে বিএনপির নেতা কর্মীরা অতিরিক্ত টোল আদায় করছেন। এ বিষয়ে প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসনিক ভাবে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কারন চাপারহাটে বিএনপির এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল সংশ্লিষ্ট রয়েছে তাই জেলা প্রশাসক সহ ইউএনও কাঠের চশমা পড়ে আছেন।