বরিশাল সংবাদদাতা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বরিশালের রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে এক গাছে ১০ জাতের আম ফলিয়ে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি গাছে ১৫ থেকে ২০ জাতের আম উৎপাদনের লক্ষ্যে কলম সংযোজনের কার্যক্রমও চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, একটি দেশি আমগাছে কলমের মাধ্যমে বিশ্বখ্যাত মিয়াজাকি, ন্যামডকমাই, রেড আইভরি, টকমাই, থ্রি টেস্ট, আম্রপালি, বারিভোগ ও বারি-১১সহ ১০ জাতের আম ফলানো হচ্ছে। এসব চারার বিক্রির পাশাপাশি ক্রেতাদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
হর্টিকালচার সেন্টারের সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর বলেন, বর্তমানে ১০ জাতের আমসংবলিত চারা পাওয়া যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা ১৫ থেকে ২০ জাতে উন্নীত করার কাজ চলছে। আগ্রহীরা চারা কিনছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বরিশালে বর্তমানে ৭৪ জাতের আমের চাষ সফল হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বের অন্যতম দামি আম মিয়াজাকি এবং সুমিষ্ট আম ন্যামডকমাই গত দুই বছর ধরে ভালো ফলন দিচ্ছে।
হর্টিকালচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিক্রি হওয়া আড়াই লাখ ফলজ চারার মধ্যে প্রায় দেড় লাখই বহুজাতের আমের চারা। দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ এসব গাছ দেখতে এবং চারা সংগ্রহ করতে আসছেন।
বরিশাল হর্টিকালচারের উপ-পরিচালক মো. অলিউল আলম বলেন, সরকারি মূল্যে কৃষকরা এখান থেকে উচ্চ ফলনশীল আমের চারা সংগ্রহ করতে পারছেন। আমের নতুন জাতের সম্প্রসারণে আরও ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় প্রতি বছর ৩ হাজার ২৩৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয় এবং গড়ে ৫২ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়।