নিউজ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা কিশোরীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আয়মুখী সহায়তা পাওয়া প্রায় ৮৫ শতাংশ কিশোরী এখন স্বাধীনভাবে আয় করতে সক্ষম এবং এক হাজারের বেশি কিশোরী পুনরায় স্কুলে ফিরেছে।
বরিশালের আমিনা ও রাবেয়ার মতো অনেক কিশোরী এই কর্মসূচির মাধ্যমে ছাগল, সেলাই মেশিন ও প্রশিক্ষণ পেয়ে আয় শুরু করেছেন। এতে তাদের পরিবারে বিয়ের চাপ কমেছে এবং তারা শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় ১৮৬ জন কিশোরীকে সেলাই মেশিন, ১ হাজার ৪৬৯ জনকে ছাগল, ২০ জন বেদে কিশোরীকে মাছ ধরার জাল এবং ১৯ জনকে শীতল পাটি ও হোগলা পাতার উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এসব সহায়তা তাদের জন্য টেকসই আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
সংস্থাটির অ্যাডোলেসেন্ট ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার কনিকা ফেরদৌস বলেন, এটি শুধু আয়বর্ধনমূলক কর্মসূচি নয়; বরং বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া কিশোরীদের স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ। বরিশাল অঞ্চলে কর্মসূচিটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের মতে, নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারীদের পরনির্ভরশীল হিসেবে দেখার প্রবণতা বাল্যবিয়ের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেছেন, বাল্যবিয়ে একটি কাঠামোগত মানবাধিকার লঙ্ঘন, যা কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রায় ৪২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। ২০১৮ সালে এ হার ছিল ৩০ শতাংশ। একই সময়ে ১৫ বছরের আগেই বিয়ে হওয়া মেয়েদের হার ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ শতাংশে পৌঁছেছে।