মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মহাসড়কের দুর্ঘটনার সংবাদ আমরা প্রায়ই পড়ি। কয়েক লাইনের খবরে লেখা থাকে—দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, একজন নিহত, কয়েকজন আহত। কিন্তু প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে থাকে কিছু না বলা গল্প, কিছু অসমাপ্ত স্বপ্ন এবং কিছু আজীবনের কান্না।
মঙ্গলবার ছিল সুমাইয়া জান্নাতের নতুন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেলে সিট বরাদ্দ হবে। পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছিল সে। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল, মেয়েটি একদিন লেখাপড়া শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হবে, সংসারের হাল ধরবে।
সকালে মা তাকে একটু দেরি করে বের হতে বলেছিলেন। কিন্তু হোস্টেলের কাজের তাড়া ছিল। দ্রুত নাস্তা করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সুমাইয়া। কে জানত, সেই বের হওয়াটাই হবে জীবনের শেষ যাত্রা।
অন্যদিকে বাবা মাওলানা আরিফুর রহমানও রাঙ্গুনিয়া থেকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে কলেজের পথে ছিলেন। একজন বাবা হয়তো ভাবছিলেন, মেয়ের নতুন জীবন শুরু হচ্ছে, পাশে দাঁড়াবেন, সাহস দেবেন। পথে মেয়ের খোঁজ নিতে ফোন করলেন। কিন্তু ফোনের ওপাশে ভেসে এলো অপরিচিত এক কণ্ঠ—“মোবাইলের মালিক বেঁচে নেই।” একজন বাবার জন্য এর চেয়ে নির্মম সংবাদ আর কী হতে পারে?
তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সুমাইয়া ছিল সবার বড়। পরিবারের সবচেয়ে বড় আশা, সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। কিন্তু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রক্তাক্ত বাস্তবতা মুহূর্তেই সবকিছু বদলে দিল।
সংবাদের মূল শিরোনামে থাকবে—‘দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত’। কিন্তু সংবাদের পেছনের সংবাদটি হলো—একজন বাবা আর কোনোদিন মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না, একজন মা সারাজীবন ভাববেন, “আর পাঁচ মিনিট পরে বের হলে হয়তো মেয়েটা বেঁচে যেত”, আর একটি পরিবারের স্বপ্ন চিরদিনের জন্য থেমে গেল মহাসড়কের নিষ্ঠুর চাকার নিচে। মহাসড়কে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে—এটাই সংবাদ। কিন্তু একটি পরিবারের সমস্ত ভবিষ্যৎ হারিয়ে যাওয়ার নামই সংবাদের পেছনের প্রকৃত সংবাদ।