ফাতেমা আকতার তোয়া।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের উজ্জ্বল প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (BUP) শান্তি, সংঘাত ও মানবাধিকার অধ্যয়ন বিভাগের (PCHR) শিক্ষার্থী দুররায় শাহওয়ার সাদাফ। নরওয়ের ট্রমসোতে অনুষ্ঠিত ASEFYLS 2026 Capacity Training-এ বাংলাদেশ ও BUP-এর একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।
বিশ্বের ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৪০টি দেশের মাত্র ৪০ জন তরুণ নেতাকে এ প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে স্থান করে নেন সাদাফ। Asia-Europe Foundation (ASEF) আয়োজিত এ মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয় UiT The Arctic University of Norway-এর আতিথেয়তায়।
২০২৬ সালের এ প্রশিক্ষণের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “Anticipatory Leadership for a Human-Centered Future”। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী তরুণ নেতারা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, মানবাধিকার, শান্তি প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন।
প্রশিক্ষণ চলাকালে সাদাফ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন এবং নরওয়ের সামি (Sámi) জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। তাঁর এ অংশগ্রহণ শান্তি, মানবাধিকার ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে।এই যাত্রাকে সম্ভব করে তোলার জন্য সাদাত BUP এবং বিশেষ করে তার প্রিয় বিভাগ PCHR-এর প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞ ও ধারাবাহিক সহযোগিতা, উৎসাহ, আস্থা ও সমর্থনের কথা বলেন।
তিনি আরও বলে, এই প্রশিক্ষণের বাইরেও সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল—নতুন জ্ঞান অর্জন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অসাধারণ মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি এবং নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশে ফিরে আসা।
সাদাফের এই অর্জন PCHR বিভাগের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনিই প্রথম শিক্ষার্থী যিনি এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে PCHR-এর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
BUP-এর শ্রেণিকক্ষ থেকে নরওয়ের আর্কটিক অঞ্চলের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাদাফের এই যাত্রা বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করেছে। তাঁর এই অর্জন আন্তর্জাতিক সুযোগ গ্রহণ, বৈশ্বিক ইস্যুতে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের সক্ষমতাকে নতুনভাবে তুলে ধরবে
—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।