নিউজ ডেস্ক
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ২০২৬, দুপুর ১২টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তিনটি প্রধান শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই শর্তগুলো ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে এবং তেহরান এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইরানের দেওয়া প্রধান তিনটি শর্ত হলো—সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের বাজেয়াপ্ত করা ইরানের সমস্ত আর্থিক সম্পদ মুক্ত করা এবং দেশটির ওপর জারি থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেওয়া। মহসেন রেজাই জানান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং এই শর্তগুলো মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থেরই অনুকূলে হবে।
ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো ফল আসবে না, আর কূটনীতি ব্যর্থ হলে ইরান একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ণায়ক যুদ্ধের জন্যও পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে রেজাই ওয়াশিংটনের নীতিগত পরিবর্তনের সমালোচনা করে বলেন, আগের সমঝোতা স্মারক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার পরই তেহরান তাদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া চলমান এই সংঘাতের সূচনা ও উসকানির জন্য তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে দায়ী করেন।
সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে সতর্ক করে ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেন, তারা মার্কিন বাহিনীর দুর্বল স্থানগুলো চিহ্নিত করেছেন এবং যেকোনো বিমান হামলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে তেহরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, সম্প্রতি একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছাকাছি ইরান জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।
আক্রান্ত হলে আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আরও ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তির তাগিদ দিয়ে রেজাই উল্লেখ করেন, ইরান সৌদি আরব ও ইয়ামেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাতেরও অবসান চায়। হুতিরাও রিয়াদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলে মনে করেন তিনি।