নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
‘প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি, সুন্দরবন রক্ষা করি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের দূষণ হ্রাস ও বাস্তুতন্ত্রের উন্নয়ন বিষয়ক শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সুন্দরবন রক্ষায় প্লাস্টিক-পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ, নদী-খাল ও জলাশয়ে বর্জ্য না ফেলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন অংশগ্রহণকারীরা।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শ্যামনগর সোনার বাংলা মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শুরুতে প্লাস্টিক, পলিথিন ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন রূপান্তরের ট্রেনিং ফ্যাসিলিটেটর খালিদ লামি। উপস্থাপনায় মানবস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক বর্জ্যের নেতিবাচক প্রভাব এবং সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রে এর সম্ভাব্য ক্ষতি তুলে ধরা হয়।
রূপান্তরের সুন্দরবন প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, ভেটখালী এ. করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী নজরুল, মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা মোস্তফা জাহিদ এবং নীলডুমুর ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই খালিদ।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন সুন্দরবন বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক রঞ্জিত বর্মন, রূপান্তরের ‘ইয়ুথ ফর দ্য সুন্দরবন ফোরাম’-এর আহ্বায়ক মুন্তাকিমুল ইসলাম, বারাসিক প্রতিনিধি মারুফ হোসেনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, তরুণ-তরুণী, সিপিজি সদস্য এবং বিভিন্ন এনজিওকর্মী।
সভায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও পলিথিন নদী, খাল, জলাশয় ও বনাঞ্চলে ফেলা হলে তা দীর্ঘদিন পরিবেশে থেকে যায়। এতে জলজ প্রাণী, মাছ, পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রও হুমকির মুখে পড়ে।
তারা আরও বলেন, শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা, পর্যটক, ব্যবসায়ী, জেলে, বনজীবী, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও পাত্র ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সভা শেষে সুন্দরবন সুরক্ষায় বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা, পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য নদী-খাল ও জলাশয়ে না ফেলা এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় জনগণকে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।