নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সর্বশেষ সমন্বয়ের পর দেশে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা হলেও আঞ্চলিক ও এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো কম। আন্তর্জাতিক জ্বালানি মূল্যের তুলনামূলক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইসেসের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত অনেক দেশের তুলনায়ও দেশে ডিজেলের খুচরা দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি মূল্যের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা ধরে বাংলাদেশে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম দাঁড়ায় ১.০৯২ মার্কিন ডলার। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা, ইন্দোনেশিয়ায় ১৭৭ টাকা ৮১ পয়সা, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৭৩ টাকা ২৩ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৬৮ টাকা ৫৩ পয়সা। ভিয়েতনামেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বাংলাদেশের চেয়ে ২ টাকা বেশি।
উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের দামের পার্থক্য বেশ বড়। হংকংয়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৫৮০ টাকা ৫৪ পয়সা, জার্মানিতে ৩৪৭ টাকা ৮৩ পয়সা, ফ্রান্সে ৩২৯ টাকা ৪০ পয়সা এবং যুক্তরাজ্যে ৩১৭ টাকা ৭৮ পয়সা। এছাড়া কানাডায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২২২ টাকা ৬৯ পয়সা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০৫ টাকা ২৬ পয়সা।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তুলনা করলে দেশের অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির দামও গড় খুচরা দামের নিচে রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা, যা আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২৯ টাকা ১২ পয়সা কম। এছাড়া প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৬০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের গড় মূল্যের চেয়ে যথাক্রমে ১৭.৬ শতাংশ ও ৬.৫ শতাংশ কম।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে আমদানি ব্যয়ের চাপ মোকাবেলা এবং পাচার ঠেকাতে সরকার গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর করেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হওয়ায় প্রতিবেশী দেশে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল পাচার রোধ এবং সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার স্বার্থেই সরকারকে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র যাতে পরিবহন ভাড়া বা বিভিন্ন পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার নজরদারি জোরদার করেছে। সাধারণ মানুষের ওপর মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে।”