উপজেলা প্রতিনিধি / নান্দাইল
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বেলা ১১টা ১৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের শেয়ালধরা বাজারে অগ্রণী ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভুয়া রসিদ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আউটলেটটির কার্যক্রম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেওয়ার পরও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এতে অনেক গ্রাহকের জমানো টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না হয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শোভা খাতুন বলেন, “গার্মেন্টসে চাকরি করে জমানো ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা সঞ্চয়পত্রে জমা দিয়েছিলাম। ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি, আমার জমা দেওয়া টাকার কোনো নথি নেই এবং রসিদটিও ভুয়া।”
আরেক ভুক্তভোগী শামছুন্নাহার জানান, তিনি ২৪ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রে জমা দেওয়ার জন্য আউটলেটে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন, তার দেওয়া রসিদটি ভুয়া। এছাড়া মালয়েশিয়াপ্রবাসী কালাম মিয়ার হিসাব থেকে তার স্ত্রীর অজান্তে ১৭ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
প্রতারণার নেপথ্যে
অগ্রণী ব্যাংকের কালিগঞ্জ বাজার শাখার অধীন এই আউটলেটটি ২০২০ সালের জুনে চালু হয়। অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২১ জুন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও গোপনে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৮ আগস্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা গিয়ে আউটলেটটির সাইনবোর্ড অপসারণ করেন।
আউটলেটের স্বত্বাধিকারী মো. মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিজান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট থেকে সঞ্চয়পত্র ইস্যু করার কোনো অনুমোদন ছিল না। আমি এ বিষয়ে অবগত নই।”
তিনি এ ঘটনার দায় আউটলেটের ব্যবস্থাপক মাজহারুল ইসলাম ওরফে সোহেলের ওপর চাপিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবস্থাপক সোহেল বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংকের কালিগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, “এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট থেকে সঞ্চয়পত্র ইস্যু কিংবা এফডিআর করার কোনো দাপ্তরিক অনুমোদন নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রধান কার্যালয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রাহকদের প্রায় ৬২ লাখ টাকা আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া গেছে। ব্যাংকের নথিবহির্ভূত এই অর্থ আত্মসাতের দায় সংশ্লিষ্ট এজেন্ট মালিককেই বহন করতে হবে।”