নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ২০২৬, সকাল ৯টা ৩৩ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার—বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত। বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন, যা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ হিসেবে নয়, একজন বাংলাদেশি এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে আমি এখানে এসেছি। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেমন তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, তেমনি আমি কাজ করি বাংলাদেশ ও এর মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই—সাফল্য নিশ্চিত করা।”
তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস এবং দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী। বিশ্ব বাংলাদেশকে তৈরি পোশাকের বড় কেন্দ্র হিসেবে চিনলেও, বর্তমানে জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন ও স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা সরকারের লক্ষ্য।
এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও বিধিবিধান সহজীকরণ, কর প্রশাসনের উন্নয়ন এবং মুনাফা সহজে ফেরত নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, বরং উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়। বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চাই, যেখান থেকে তাঁরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।”
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। তিনি বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।