নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৮টা ৪৯ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শ্রমিকদের টানা বিক্ষোভ ও আপত্তির মুখে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ১৫ বছর মেয়াদি দায়িত্ব পেল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এ চুক্তি সই হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর টার্মিনাল পরিচালনার পাশাপাশি যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। তবে টার্মিনালের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকবে। দুই পক্ষ সম্মত হলে চুক্তির মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানো যাবে।
২০০৭ সালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটিতে পাঁচটি জেটি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় অর্ধেক এই টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এতদিন এটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড পরিচালনা করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “পোর্ট ইজারা দেওয়া আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং একই বিষয় নয়। এই পোর্টের মালিকানা, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড টার্মিনালকে আধুনিকায়নের জন্য ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে এবং বাংলাদেশ ৬০০ কোটি টাকা সাইনিং মানি হিসেবে পাচ্ছে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে এটিকে মুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। এই চুক্তির ফলে শ্রমিকদের চাকরি হারানোর কোনো সুযোগ নেই, বরং বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান ও কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।”
চুক্তির বিরোধিতা করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট ট্যারিফে বন্দর পরিচালনা করি, কিন্তু বিদেশিদের দিলে কমিশন দিতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে না দিয়ে দেশীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা সম্ভব ছিল।”
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম বলেন, “বিদেশি কোম্পানি আসায় টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়বে। তবে বন্দরের ল্যান্ড করিডোর ও রেলওয়ে সংযোগের মতো সমস্যাগুলো সমাধান করা জরুরি। এছাড়া শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরকে দেওয়ার আলোচনা চলছিল। শ্রমিকদের তীব্র বিরোধিতার মুখে অতীতে কয়েকবার প্রক্রিয়াটি স্থগিত হলেও বর্তমান সরকার এই চুক্তি চূড়ান্ত করল।