নিজস্ব প্রতিনিধি। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জবর দখলকৃত চিংড়িঘের থেকে বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতা আমজাদুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ২২ লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাতে দখলের পর থেকে ১২শ বিঘা আয়তনের ‘বিসমিল্লাহ-০৩’ নামীয় চিংড়ি ঘের থেকে এক সপ্তাহ ধরে বিশাল অংকের ঐ মাছ লুট হয়েছে বলে অভিযোগ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আমজাদুল ও হাফিজুর যথাক্রমে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক। তিন শতাধিক লাঠিয়াল নিয়ে সাত দিন আগে দখলের পর থেকে উপজেলার ঝাপা-সোনাখালী এলাকার উক্ত চিংড়ি ঘেরের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বিএনপি ও যুবদলের প্রভাবশালী উক্ত দুই নেতা।
ঘের মালিক রবিউল্লাহ বাহার জানান জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে উক্ত ঘের জবর দখলে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর আব্দুস সাত্তার মাইকিং করে মালিকদের অনুকুলে ঘের ছেড়ে দিয়ে চলে যায়।
রবিউল্লাহ বাহারসহ মাখনলাল মন্ডল নামের অপর এক জমির মালিক অভিযোগ করেন আব্দুস সাত্তার ঘের হস্তান্তরের পর স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী বিএনপি নেতা আমজাদুল ৩০ লাখ টাকাসহ ঘেরের ‘শেয়ার’ দাবি করেছিল। তবে তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লোকজন নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে আমজাদুল ও হাফিজুর ঘেরটি দখল করে।
জবর দখলকৃত জমি ও ঘের মালিকদের অভিযোগ ঘেরের দখল নেয়ার পর থেকে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার মাছ শিকার অব্যাহত রেখেছে। ঘেরের কর্মচারীরা সেখানে গেলে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। দখলদার উক্ত প্রভাবশালীরা সাত দিনে ১০ লাখ টাকারও বেশী মাছ ধরে নিয়েছে বলেও দাবি তাদের। প্রমানাদী ধ্বংসের অংশ হিসেবে দখলদাররা ঘেরের বাসায় স্থাপনকৃত সিসি ক্যামেরাগুলো ভেঙে ফেলেছে। জমি ও ঘের মালিকদের জমির দিকে না যাওয়ার জন্য বার বার হুমকি দেয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে আমজাদুল ও হাফিজুর উক্ত ঘের দখলে নিয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয় জমি মালিকদের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বার বার ফোন দেয়া হলেও আমজাদুল ইসলাম কল ধরেননি। তবে হাফিজুর রহমান বলেন আব্দুস সাত্তার নিজের মালিকানা হস্থান্তর করায় তারা ঘেরের দখল নিয়েছেন।