
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূল হোতা আবু বক্কর সিদ্দিক ও সক্রিয় চার জন সদস্যকে আটক করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাতে তাদের আটক করা হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নয়টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন, শ্যামনগর পৌরসভার চিংড়াখালী গ্রামের আরশাদ আলী গাজীর ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৫), শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা গ্রামের ছাকাত গাজীর ছেলে শাহাজাহান গাজী (৩৫), একই ইউনিয়নের গবুরা গ্রামের ইউনুস আলী গাজীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান নান্নু (৩৫), আব্দুল গফুর গাজীর ছেলে আতিকুর রহমান সাজু (৩৮), ও কালীগঞ্জ উপজেলার কাঁকশিয়ালী গ্রামের মৃত হাসান গাজীর ছেলে সালাউদ্দিন গাজী (৩৮)।
শ্যামনগর থানা সূত্রে জানাযায়, আসামীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জেলায় একাধিক চুরি, অস্ত্র, মাদক মামলা রয়েছে। আসামী সালাউদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে ১৫ টি, আবু বক্কর সিদ্দিক গাজীর বিরুদ্ধে ২৭ টি, মোস্তাফিজুর রহমান নান্নুর বিরুদ্ধে ০৩ টি, আতিকুর রহমান সাজুর বিরুদ্ধে ০৩ টি এবং শাহাজাহান গাজীর বিরুদ্ধে ০৩ টি মামলা রয়েছে। আরও জানাযায়, শাহাজাহান গাজী আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যু। তাদের কাছ থেকে মোট নয়টি মোটরসাইকেলের উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ৯টি মোটরসাইকেলের মধ্য থেকে তিনটি মোটরসাইকেলের মালিককে পাওয়া গিয়েছে এবং তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গাড়ি ফেরত পাওয়া মালিকরা হলেন, চুনকুড়ি গ্রামের হরিদাস মন্ডল, নকিপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন ও যতিন্দ্রনগর গ্রামের শাহিনুর রহমান বাবু।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, শাহিনুর ইসলাম বাবু নামের একজনের মোটরসাইকেল চুরি হয়ে গেলে তিনি শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার ভিত্তিতে মোটরসাইকেল উদ্ধার ও আসামি আটকের চেষ্টা করি এবং আসামি সালাউদ্দিন গাজীকে চোরাই গাড়ি সহ আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে বলে তার সাথে আবু বক্কর জড়িত। আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করার পর সে জানায় তার সাথে শাহাজাহান জড়িত। শাহাজাহানকে গ্রেফতার পর সে জানায় তার সাথে নান্নু ও সাজু জড়িত। পরে নান্নু ও সাজুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে চোরাইকৃত নয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। নয়টি মোটরসাইকেলের ভিতর থেকে তিনজন মোটরসাইকেলের মালিককে পাওয়া গিয়েছে, তারা বাদী হয়ে মামলা করেন। বাকি মোটরসাইকেল গুলোর জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবং আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করার প্রস্তুতি চলছে।
মোটরসাইকেল চোর আবু বক্কার সিদ্দিকী বলেন, একটা গাড়ি চুরি করতে আমার ৪-৫ মিনিট সময় লাগে। আমি গাড়ি নিয়ে সালাউদ্দিনের কাছে দেই এবং সে বিক্রি করে।
গাড়ির মালিক হরিদাস মন্ডল বলেন, আমি মনে করছিলাম গাড়ি আর পাব না। কোথা থেকে কোথায় যাবে আর কোথায় পাবো। কিন্তু উপরওয়ালার ওসিলায় আমি গাড়িটি পেয়েছি। আমি খুব খুশি।