দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি।
দেশ বরেণ্য শিল্প উদ্যোক্তা নাসির উদ্দীন বিশ্বাসের ৩য় মৃত্যু আজ ১২ সেপ্টেম্বর। এই দিনে দেশের তথা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের এই নক্ষত্রের পতন ঘটে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নাসির উদ্দিন বিশ্বাস এক স্বপ্নের ফেরিওয়ালার মত। শুনলে অনেকের কাছে গল্প বলে মনে হবে। বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও দেশ বরেণ্য শিল্পপতি নাসির উদ্দিন বিশ্বাস ১৯৪৫ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারী কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার সোনাইকুন্ডি গ্রামের জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা ইদ্রিস আলী বিশ্বাস ও মাতা রহিমা বেগম। তিনি ১৯৬৭ সালে কৎকালীন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়ীয়া মাধমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৬৯ সালে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৭১ সালে একই কলেজ থেকে বি.কম পাশ করেন। ১৯৭১ সালে নিজ গ্রামের মেয়ে মোসাঃ আনোয়ারা বিশ্বাসের সাথে ভালবাসার এক পর্যায়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস দ্বিতীয়, কৃষি কাজের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৭২ সালে তিনি তামাক ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে নাসির বিড়ি ফ্যাক্টরী গড়ে তোলেন। ১৯৭৭ সালে কুষ্টিয়া বিসিক শিল্প নগরীতে এ অঞ্চলে প্রথম নর্থবেঙ্গল প্লস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৮৫ সালে ঢাকার ডেমরায় বাংলাদেশ মেলামাইন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ১৯৯৬ সালে নাসির টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ, ২০০০ সালে রিড্রাইং প্লান্ট ও বিশ্বাস প্রিন্টিং ও প্যাকেজেস লিমিটেড এবং ২০০২ সালে নাসির গ্রুফ ইন্ডাস্ট্রিজ নামে নাসির এলইডি, নাসির গ্লাস সহ মোট ৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। জনহিতকর কাজের মধ্যে ১৯৮৮ সালে আল্লারদর্গায় নাসিরউদ্দিন গার্লস মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং ২০০২ সালে তা গার্লস কলেজে উন্নীত করেন।
১৯৯১ সাল থেকে প্রতি বছর কুষ্টিয়ার ১০০ জন করে মেধাবী ছাত্র ছাত্রীকে নাসির উদ্দিন কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান করে আসছেন। ১৯৯১ সালে স্ত্রীর নামে আনোয়ারা বিশ্বাস মা ও শিশু হাসপাতাল স্থাপন করেন। ১৯৯২ সালে মায়ের নামে রহিমা বেগম একাডেমী মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯৯২ সাল থেকে এলাকার গরীব অসহায় মানুষের অন্ধত্ব মোচনের জন্য নিজ অর্থায়নে চক্ষু চিকিৎসা শিবির চালু করেন এবং এখনও সেটি চলমান রয়েছে।
১৯৯৪ সালে দৌলুতপুর উপজেলায় বড়গাংদিয়া এলাকায় নাসির উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। বিশেষ করে, দৌলতপুরের আল্লারদর্গাকে একটি শিল্প এলাকা হিসাবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি।
২০০২ সাল থেকে দৌলতপুর থানার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো সম্প্রসানের লক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে ১৪ টি ইউনিয়নে ১৪টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনা করেন, বর্তমানে বিদ্যালয়গুলো সরকারী করন হয়েছে।
এছাড়া আল্লারদর্গা এলাকায় নাসির উদ্দিন বিশ্বাস পলিটেশনিক ইন্সটিটিউট ও নাসির উদ্দিন বিশ্বাস নার্সিং ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে এলাকার যুবক/যুবতীদের শিক্ষা লাভের ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
নাসির উদ্দিন বিশ্বাস শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও হাজার হাজার মানুষের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। তিনি দৌলতপুর, কুষ্টিয়া তথা রাষ্ট্রের গুরুত্ব পুর্ন মানবে রুপান্তরিত হয়েছিলেন। তিনি এলাকার গৌরব,তিনি এ অঞ্চল তথা দেশের অহংকার। তার এ সকল অসামান্য অবদান আমৃত্য শ্রদ্ধার সাথে স্বরণে রাখবে মানুষ।