নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সুন্দরবনের নদ-নদী, খাল ও অন্যান্য জলাশয় থেকে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বনবিভাগ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনের আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিভাগের কর্মকর্তারা। সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং করে এই সতর্ক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ ফজলুল হক বলেন, “সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতির মাঝে ঝিনুক শামুক খাদ্য শৃঙ্খলের একটি অন্যতম উপাদান। এটির ব্যত্যয় হলে প্রাণী হুমকিতে পড়বে এবং বংশ বিস্তার কমে যাবে। সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছু অসাধু ব্যক্তি নদ-নদী থেকে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ করে পাচারের চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।”
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া, বনবিভাগের নিয়মিত টহল দল (প্যাট্রোল টিম) নদী ও জলাশয়ে অভিযান পরিচালনা করছে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, শামুক ও ঝিনুক সুন্দরবনের জলজ পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের আহরণের ফলে নদীর নিচতলার বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা সামগ্রিকভাবে অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবনচক্রকে বাধাগ্রস্ত করে।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বনবিভাগের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এই ধরনের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন ছিল অনেক আগেই।
বনবিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ শামুক বা ঝিনুক সংগ্রহ করলে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করে দণ্ডিত করা হবে। এমনকি প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।