রংপুর প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে অ্যানথ্রাক্স রোগের বিস্তার নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের বিধান অনুযায়ী পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সনদ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও বেশিরভাগ মাংস ব্যবসায়ীর কাছে এসব নেই। অনেকেই এ আইন সম্পর্কে অবগত নন।
সম্প্রতি পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জেও রোগ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩০–৩৫ স্থানে ৬০–৬৫টি গরু ও ছাগল জবাই হলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও লাইসেন্সের কোনো ব্যবস্থা নেই। মিঠাপুকুরের ইমাদপুর ইউনিয়নে অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ে এবং সংস্পর্শে আসা দুই জনের শরীরে রোগ শনাক্ত হয়। আরও সাত জনের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে দুই জনের পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।
এ পরিস্থিতিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতামূলক সভা, লিফলেট বিতরণ ও টিকাদান কর্মসূচি চালাচ্ছে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কুমার দে জানান, রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া কোনো পশু জবাই করা হবে না।
তবে তারাগঞ্জ উপজেলায় ৬০–৭০ জন মাংস ব্যবসায়ী থাকলেও কারও কাছে লাইসেন্স নেই। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, তিনি আগে লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কেই জানতেন না।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে এবং অসুস্থ পশুর রক্ত-মাংসের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জনবল ও আইন প্রয়োগ জোরদার না হলে শীতের আগেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে ইতিমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, আতঙ্কের কারণ নেই, তবে ব্যবসায়ীদের সচেতনতা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।