রফিকুল ইসলাম দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি। আকাশে মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চাঁদের মতো, শরতের সকালে যখন সোনালি আলোয় মেশে ধূপের সুবাস, তখন সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া এক অলৌকিক যাত্রা শুরু হয়। এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় পূজামণ্ডপ নয়, এক বিশাল রেলস্টেশনের রূপ ধারণ করেছে—‘বাংলাদেশ রেলওয়ে সুন্দরবন সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেস’! কোনো টিকিটের দরকার নেই, শুধু হৃদয়ের টিকিট নিয়ে উঠুন এই ট্রেনে। যেন মা দুর্গা নিজে এসেছেন অদৃশ্য রেললাইন ধরে, তার সন্তানদের কাছে ফিরতে। দর্শনার্থীদের পদসঙ্কেতে ভরে উঠছে এই স্টেশন, আর বাতাসে মিশে যাচ্ছে হর্ষধ্বনির ঝংকার—যা শুধু উৎসব নয়, এক অমর প্রেমকাহিনি!
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কটা নির্জন গ্রামের ধুলোমাখা পথে হঠাৎ উঠে আসে একটা জীবন্ত ট্রেনের ছবি। টানা তিন মাসেরও বেশি পরিশ্রমে গড়া এই প্রতিকৃতি, যেন বাংলাদেশ রেলের আসল কামরা—সীট থেকে শুরু করে জানালার গ্রিল, সবকিছুতেই সেই পরিচিত ধাতুর ঝকঝকে ভাব। মণ্ডপের মূল কাঠামো একটা সম্পূর্ণ রেলগাড়ির আদলে তৈরি, যার ভিতর দিয়ে হেঁটে প্রতিমার সামনে পৌঁছানো যায়। চারপাশে রেললাইনের মতো সাজানো পথ, লাল-সবুজ সিগন্যাল পোস্ট যেন চোখ টিপে বলছে “আসুন, যাত্রা শুরু!”, টিকিট কাউন্টারে বসে আছে কাল্পনিক টিকিটজী—যার হাতে নেই কোনো কাগজ, শুধু হাসির ফুল।
এই সবকিছু মিলিয়ে যেন একটা জীবন্ত ছবি, যা দর্শনার্থীদের মনে জাগায় অসীম ভালোবাসা—মায়ের জন্য, উৎসবের জন্য, আর এই সাধারণ জীবনের অসাধারণ মুহূর্তের জন্য। যেন ট্রেনের চাকার ঘর্ঘর শব্দে মিশে যায় হৃদয়ের ধড়পড়ানি, আর প্রতিটা পদক্ষেপে অনুভব হয় যেন মা দুর্গা নিজে হাত বাড়িয়ে বলছেন, “আয় আমার কোলে বস।”
এদিকে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় পূজামণ্ডপ দেবহাটায় পারুলিয়ায় দাসপাড়া দূর্গা মন্দিরে মেইন গেট ধানের আদলে করা হয়েছে। বৈশাখের ধান নিয়ে এলো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চাঁদের মতো, শরতের সকালে যখন সোনালি ফসল মেশে ধূপের সুবাস, তখন সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুললিয়া দাসপাড়া দুর্গা মন্দির এক অলৌকিক যাত্রা শুরু হয়।