কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বন্যার পানি নামার পর উত্তরের চার জেলায়—রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীতে—তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদ তীরে অন্তত ৬০টি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, ফলের বাগানসহ নানা স্থাপনা। গৃহহীন হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার।
সবচেয়ে বেশি ভাঙছে কুড়িগ্রামের সদর, নাগেশ্বরী, রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলায়। বিশেষ করে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামে গত দুই দিনে প্রায় ৫০টি পরিবার নদীতে হারিয়েছে ঘরবাড়ি ও জমি। স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, “দুই দিনে অন্তত একশ বিঘা জমি নদীতে গেছে, ভাঙন এখনো চলছে।”
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “ভাঙন ঠেকাতে বিপুল পরিমাণে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলতে হবে, কিন্তু আপাতত পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। কিছু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে।”
অন্যদিকে, লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরে ১২টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষক সুভাষ চন্দ্র বর্মণ বলেন, “প্রতিদিনই আবাদি জমি নদীর মধ্যে চলে যাচ্ছে, ঘরবাড়ি নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছি।”
হরিণচড়া এলাকার কৃষক আবেদ আলী জানান, “গত দুদিনে ১০টি বসতভিটা আর অর্ধশতাধিক জমি নদীগর্ভে গেছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও শতাধিক বাড়ি ভেঙে যাবে।”
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, “তিস্তার ঘূর্ণিস্রোতের আঘাতে ভাঙন হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি চলছে।”
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ জানান, “উজানের ঢলে পানি বেড়ে গিয়ে পরে কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে, তাদের জরুরি সহায়তা দেওয়া হবে।”
এদিকে, নদীভাঙনের আতঙ্কে নদীপাড়ের অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, “নদীই আমাদের সব কিছু কেড়ে নিচ্ছে, এখন থাকার জায়গাটুকুও নেই।